আকাবির

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.: এক মদীনার ফেরিওয়ালা

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী

একজন মানুষকে কী দিয়ে চিনবো? তাঁর চরিত্রে, তাঁর সহায়-সম্পদে, তাঁর বংশ-পরিচয়ে, তাঁর কর্মে না কি তাঁর ব্যক্তিত্বে? আমি কোন সমাজবিজ্ঞানী নই; মনোবিজ্ঞানী নই; নই কোন দার্শনিকও নিতান্ত একজন স্বাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন মানুষ হিসাবে যখন প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজিঅবচেতন মনে কেউ যেন বলে দেয়: মানুষের পরিচয় তাঁর অনুতে বৃহদাংশে মনুষ্য-পরিচয় ভাসা-ভাসা জীবনের ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলিতে ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র আচরণ, অনুশীলন,ভাবনা ইত্যাদি মানুষকে উপস্থাপন করে প্রকৃত মনুষ্যত্বের মানদণ্ডে কেউ বিশালসব মিল কারখানার মালিক হলেন; কেউ জাতীয় অন্তর্জাতিক পরিচয়ের মালিক হলেন; কেউ শতশত পুরষ্কার গ্রহণ করলেন, কেউ বা আবার দানবীর হলেনতাতে আমি মনুষ্যত্বের আসল পরিচয় খুঁজতে যাবো না আমি দেখবো তিনি তাঁর জীবনের আড়ালে থাকা অধ্যায়ে মানুষের জন্য, তৃণমূলের জন্য স্বার্থকে অতিক্রম করে বেঁচে থাকার এবং মনুষ্য-সমাজকে বিকশিত করার উপাদান দিয়ে যেতে পেরেছেন কি না সে অর্থে আমি স্মরণ করার চেষ্টা করি বাংলাদেশের ইসলামী কলমচর্চা বা সাহিত্যচর্চার প্রাণপুরুষ মাসিক মদীনা সম্পাদক  মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.কেযাঁকে আমি ভাবি মদীনার ফেরিওয়ালা বলে।

হযরতকে আমি যে খুব কাছ থেকে দেখেছি, তা নয়; তাঁর ঘনিষ্ট যে ছিলাম তাও নয়; নই তাঁর বিশাল কর্মের প্রত্যক্ষ সাক্ষীও।  তবুও তাঁর লেখা, মাসিক মদীনার সম্পাদনার লৈখিক মেরুকরণ এবং তাঁর সম্পর্কে শ্রুতি অবলম্বনে আমার আজকের এ লেখার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। হযরতের সাথে এ লেখকের প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ হয়েছে কেবল-ই একবার। সময়টা সম্ভবত ১৯৮৯তে, চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া বাবুনগরের বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষে। তখন আমি ছাত্র। মূলত একটি জীবনী-গ্রন্থের মাধ্যমে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-র লেখার সাথে আমার প্রথম পরিচয়। গ্রন্থটি‘হায়াতে মদনী’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। বইটির গ্রন্থকার হিসাবে হযরতের সাথে মাওলানা মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ সাহেবের নামও লিপিবদ্ধ আছে।  খুব সম্ভবত প্রন্থটি আমার মরহুম বাবার হাতে সে-সময়েই কেনা। ঘরে রক্ষিত পুরনো বইয়ের তাকে দেখতে পাই সেই সত্তরের দশকের শেষেতখন আমি ছাত্র।  যেহেতু মরহুম বাবার আধ্যাত্মিক উস্তাদ বিখ্যাত খলীফায়ে মাদানী মাওলানা মুহাম্মাদ বশীর আহমদ সাহেব রহ. যিনি ‘শেখ-এ বাঘা’ (হযরতের বাড়ি সিলেটের বাঘা য়ুনিয়নে) হিসাবে পরিচিত ছিলেন, সঙ্গতকারণে বাল্যকাল থেকেই শাইখুল ইসলাম হযরত মাদানী রহ.-র ব্যক্তিত্বের প্রতি আমার এক অজানা আকর্ষণ ছিলো।  উক্ত আকর্ষণ থেকেই প্রধানত গ্রন্থটি পড়া। গ্রন্থটির সহজ-সরল প্রকাশভঙ্গী এবং হযরত মাদানী রহ.-র বিপ্লবী জীবনের চিত্রাঙ্কন আমার সেই তরুণ বয়সে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলো একতরফা।  এরপর থেকে বইয়ের বাজারে গেলেই খুঁজতাম মুহিউদ্দীন খান রহ.-র কোন গ্রন্থ; বিশেষ করে কোন ঐতিহাসিক লেখা।  ৮০’র দশকের শেষে পেলাম হযরত রহ.-র অনবদ্য অনুবাদগ্রন্থ উপমহাদেশের ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী বীর মাওলানা ফযলে হক খায়রাবাদী শহীদ রহ.-র দুস্প্রাপ্য রচনা‘আস সাওরাতুল হিন্দিয়া’র বাংলা অনুবাদ ‘আজাদী আন্দোলন ১৮৫৭’।  ৮০’র দশকের অর্ধে বিখ্যাত ভারতীয় মনীষী মাওলানা মানযূর নু’মানী রহ.-র অবিস্মরণীয় গ্রন্থ ‘ইরানী ইনকিলাব’-র বাংলা অনুবাদ ‘ইরানী ইনকেলাব ইমাম খোমেনী ও শিয়া মতবাদ’ প্রকাশ করে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. এদেশের মুসলিম-সমাজের ঈমান রক্ষায় যে ঐতিহাসিক অবদান রাখেনকখনও তা বিস্মৃত হবার নয়।  গ্রন্থটি এখনও বাংলা ভাষাভাষীদের মাঝে এক প্রামাণ্য দলীল।  তাঁর নিজস্ব রচনা ‘রওজা শরীফের ইতিহাস’ ৮০’র দশকের পাঠকদের তৃষ্ণা মিটিয়েছে অবারিতভাবে।  পবিত্র কুরআন শরীফের বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ মুফতী শফী সাহেব রহ.-র ‘মাআরিফুল কুরআন’-র অত্যন্ত স্বল্প সময়ে বাংলা অনুবাদ করে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. যে দুনিয়াজোড়া খিদমাত আন্জাম দিয়েছেনতা নিশ্চয় অগণিত বাংলাভাষী মু’মিনদের দিলের তৃষ্ণা মিটিয়েছে।  এ রকম আরও বহু উদাহরণ দেয়া যায়যা মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. উম্মাহর সামনে পেশ করে সমাজ ও চিন্তার জগতে বিস্ময়কর পরিবর্তনের খোরাক দিয়ে গেছেন।

এখানে একটি প্রশ্নকে অস্বীকার করার উপায় নেই। তা হলো, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.কে কেন আমি আমার মাপকাঠিতে তৃণমূল সংস্কারের একজন সৈনিক হিসাবে বেছে নিলাম? বিষয়টিকে খোলাসা করে বলা দরকার। আমি আগেই বলেছি, একজন সফল বা মানোত্তীর্ণ মানুষকে আমি বিচার করবো সমাজের আড়ালে থাকা এমনসব বিষয়ে অবদান রাখার মাপকাঠিতেযা ভেতর থেকে সমাজ পরিবর্তনের মেজায বা মানসিকতা  তৈরি করে।  আপনি যতোই অতীতের দিকে যাবেন, হোক সে ষাট-সত্তরের দশক বা তারও আগে, দেখবেন বাংলা ভাষায় ইসলামী অঙ্গনে চর্চার ক্ষেত্র ছিলো অনেকটাই সীমিত।  বিশেষত আমাদের আলিম-উলামা, মাদরাসা-জগৎ, ইসলামী সাহিত্য সৃষ্টি ইত্যাদিতে একটা মরুময় অবস্থা চলছিলো।  অবশ্য তখন যে ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে কোন কাজ হয়নি, তা নয়।  কিন্তু সে-সব কাজ কোন না কোন কারণে বহাল থাকতে পারেনি। অর্থনৈতিক বা সামাজিক সীমাবদ্ধতা, অধিকাংশের দৃষ্টিভঙ্গীগত প্রতিকূল অবস্থা ইত্যাদি কারণে অনেক বিজ্ঞ ও সমাজ-সচেতন ব্যক্তিত্বের নানা উদ্যোগ থেমে যেতে বাধ্য হয়েছে।  ষাটের দশকের এমনি একটি উদ্যোগের কথা এখানে উল্লেখ করতে পারি। উদ্যোগটি নেয়া হয় চট্টগ্রাম থেকে। সুপরিচিত ইলমী দারসগাহ্ জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার সাবেক শাইখুল হাদীস উস্তাযুল আসাতিযা আল্লামা মুহম্মাদ ইছহাক আল গাযী রহ. তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে ‘আন্জুমানে হেদায়তুল ইসলাম’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেন। এ সম্পর্কে হযরত গাযী সাহেব রহ. নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এ লেখকের কাছে কিঞ্চিৎ আলোচনা করেছিলেন। হযরত রহ.-র বয়ানানুসারে আন্জুমানে হেদায়তুল ইসলামের পক্ষ থেকে বাংলা ভাষায় লেখা ‘নাযাতুল ইনসান বা মানুষের মুক্তি’, বাংলায় খোতবা পড়িব না কেন?’, ‘যুগ ও ধর্ম’, ‘খছায়েলে নববী বা নবী চরিত’, খৃষ্টান মিশনারীর কবলে মুছলমান’, ‘ঘুষখোরের স্থান কোথায়?’, ‘কবরপুজার বিষফল’, ‘মাতাপিতার হক’, ‘সত্যের ডাক’ ইত্যাদি পুস্তিকা মুসলিম-সমাজে দা’ওয়াতের উদ্দেশে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে মাত্র দু’-তিনটি এ লেখকের কাছে হযরত গাযী সাহেব রহ. রেখে যান। হযরত রহ. বলেছিলেন, সে-সময় এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত উর্দূ দৈনিক জং-এ সংস্থার আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন ছাপা হয়। আবেদন প্রকাশের পরপরই পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উর্দূভাষী মুসলমানরা অবারিত সাহায্য পাঠাতে থাকেন। সে-কারণে তৎকালীন সময়ে বেশ কিছু যুগোপযুগী পুস্তিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আনজুমানে হেদায়তুল ইসলামের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সংস্থাটিকে আর দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। হযরত রহ. বলেছিলেন, স্বাধীন হবার পরও পশ্চিম পাকিস্তানীরা কিছুকিছু সাহায্য পাঠাতেন কিন্তু এখানকার পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্জুমানে হেদায়তুল ইসলামকে ধরে রাখা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বলছিলাম, বাংলাদেশে বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চা ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-র কথা।  বিভিন্ন তথ্য ঘেটে জানতে পেরেছি, ১৯৫৮ সালের দিকে ঢাকায় মদীনা পাবলিকেশন্স প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তাঁর সংগ্রামী জীবন শুরু এবং ১৯৬১ সাল থেকে সুপরিচিত মাসিক মদীনার প্রকাশনা শুরু হয়। যতোটুকু জানা যায়, বাংলাভাষী মুসলিম-সমাজের দোরগোড়ায় মদীনা পাবলিকেশন্স মৌলিক, ঐতিহাসিক, তাফসীর, হাদীস, ফিকাহসহ ৬০০’র মতো ইসলামী গ্রন্থ পৌঁছে দিয়েছে।  মাওলানা রহ.-র প্রকাশিত এ বিশালসংখ্যক গ্রন্থ শুধু বাংলাদেশে নয়, সীমান্ত পেরিয়ে বাইরের বাংলাভাষী মুসলমানদের মাঝেও ইসলামের বিশ্বাসগত, ঐতিহাসিক ও সামাজিক দা’ওয়াত পৌঁছে দেয়। স্মরণযোগ্য যে, মাওলানা রহ. যে সময়টাতে বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন, সময়টা ছিলো বিভিন্নভাবে প্রতিকূল। প্রথমত উর্দূভাষী পশ্চিম পাকিস্তানীদের শাসনাধীন থেকে বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চা ছিলো স্রোতের বিপরীতে একটি কঠিনকর্ম। আমি বলছি না যে, পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চাকে বাধা দিতো। ব্যাপার হলো, দেশব্যাপী যখন উর্দূর পরিবেশ, রাষ্ট্রভাষা হিসাবে উর্দূকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, শাসকগোষ্ঠীর ভাষাও উর্দূএমন পরিবেশে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চার উপকরণাদি ছিলো যথেষ্ট সীমিত। কারণ, দেশভাগের আগে এখানকার বাংলাচর্চা ছিলো কলিকাতাকেন্দ্রিক। বাংলাচর্চার রাজধানী ছিলো কলিকাতা।  ফলে বাংলাচর্চার উপকরণ প্রাপ্তিতে ঢাকা ছিলো অনেক পিছিয়ে। দেশভাগের পর কলিকাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হবার কারণে ঢাকাকেন্দ্রিক বাংলাচর্চার সংগ্রামী যুগের আরম্ভ হয়। মূলত এমন পরিবেশেই মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.কে প্রকাশনা শিল্প স্থাপন করে বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চার পুনর্জাগরণ করতে হয়। প্রতিকূলতার আরেক দিক হলো, এ দেশের মাদরাসাগুলো ছিলো আরবী, ফারসী ও উর্দূকেন্দ্রিক। ফলে, বিশেষত কওমী মাদরাসার ছাত্রদের কাছে বাংলাচর্চার খুব একটা কদর ছিলো না। আমার জানা মতে ৮০’র দশকের শেষ অবধি মাদরাসা-জগতে উক্ত অবস্থা বিরাজমান ছিলো।  ৮০’র দশকের শেষ প্রান্তে এসে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে মাসিক মদীনা সমাদৃত হতে শুরু করে। বলা যায়, একদিকে প্রকাশনা শিল্প গড়ে তোলার সংগ্রাম অন্যদিকে জনসাধারণে বিশেষত মাদরাসা-জগতে প্রকাশনা বিস্তারের প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগুনোর পথকে সম্বল করে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. যে সমাজ পরিবর্তনের সূচনা করেন তা নিঃসন্দেহে কালজয়ী হিসাবে আখ্যা পাবার যোগ্য। উল্লেখ্য, এর আগেও প্রকাশনা নিয়ে কাজ হয়েছিলো কিন্তু নিজস্ব কোন প্রকাশনা শিল্প গড়ে তোলা ছাড়াই। মাওলানা রহ. এখানে ব্যতিক্রম এ কারণে যে, তাঁর নিজস্ব প্রকাশনা শিল্প ছিলো।  শুধু যে সফল প্রকাশনা শিল্প গড়ে তোলার সংগ্রামে মাওলানা রহ. ব্যাপৃত থেকেছেন তা নয়, মাসিক মদীনাকে সমাজের স্তরে-স্তরে পৌঁছে দিতে তিনি করেছেন বর্ণনাতীত পরিশ্রম। ঢাকা থেকে প্রকাশিত এক সময়ের জমিয়ত পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহীম ইসলামাবাদী এ লেখককে বলেন: স্বাধীনতার পর মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. ঢাকার বিভিন্ন অলিগলিতে মাথার উপর মাসিক মদীনা নিয়ে ফেরি করে বেড়াতেন। এভাবেই তিনি মাসিক মদীনাকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করে যানএ জন্যই তিনি মদীনার ফেরিওয়ালা।

মদীনা সম্পাদকখ্যাত মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.-র সবচেয়ে বড়ো অবদান ছিলো, বাংলায় ইসলামী সাহিত্যচর্চার পুনর্জাগরণ ও সম্প্রসারণে প্রতিকূলতার সঙ্কটসন্ধিতে বিজয়কে ছিনিয়ে আনা। এটা মামুলি কোন সরলরৈখিক কর্ম ছিলো না। এ জন্য তাঁর জীবন কেটেছে অসম্ভব কষ্টসহিষ্ণুতা, ধৈর্য, অভিজ্ঞতা অর্জন ও ধীরস্থির পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে। পার্থিব আশা-আকাঙ্খা, মোহের হাতছানি সবকিছুকে পেছনে ফেলে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. এগিয়ে গেছেন তাঁর লক্ষ্য পানে।  তাঁর এ পথ পরিক্রমার ক্রান্তিকালে তিনি একাই হেঁটে যাননি, সাথে নিয়ে গেছেন সীমানার ভেতরে-বাইরে বাংলাভাষী মুসলমানের বৈশ্বিক ও আধ্যাত্মিক জাগরণকে।  মুসলিম-সমাজ খুঁজে পেয়েছে লিপিবদ্ধ হরফের মাঝে জীবন-সংস্কারের দূর্লভ মহৌষধ। এখানেই মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. আমার কাছে একজন মানোত্তীর্ণ মানুষ; একজন কালজয়ী মুসলিম সাহিত্যসেবী এবং হাজার বছর ধরে মনে রাখার মতো অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব।  তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে, লেখায়, সাহিত্যসেবায় এবং ইসলামী মানসসৃষ্টির নেতৃত্বে। দোয়া করি, আল্লাহ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ.কে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করে রাখুন। 

২৪.০১.২০২১


আমীরে শরীয়াত মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর রহ.-র সুপারিশ ও দোয়ায় শাইখুল ইসলাম হযরত তাকী উসমানী দা.বা. যেভাবে পাকিস্তানের শরীয়া আদালতের বিচারক হয়েছিলেন:

আমরা অনেকেই জানি বিশ্বখ্যাত আলিমে দ্বীন শাইখুল ইসলাম মাওলানা তাকী উসমানী দা.বা. মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হকের আমলে পাকিস্তানের আপীল বিভাগের শরীয়া আদালতের বিচারক ছিলেন। তিনি বিচারক থাকাকালে শরীয়াহ আদালত থেকে বেশ কিছু ঐতিহাসিক রায় দেয়া হয়। তার মধ্যে ‍সুদকে সার্বিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে মোশাররফ প্রেসিডেন্ট হলে এ রায় পরিবর্তনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং বিচারক মাও. তাকী উসমানী তাতে সম্মত না হলে তাঁকে শরীয়া প্যানেল থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না: মাওলানা তাকী উসমানী মূলত বিচারক হয়েছিলেন উপমহাদেশের বিখ্যাত আলিমে দ্বীন ও আধ্যাত্মিক পুরুষ হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহ.-র আন্তরিক দোয়া ও সুপারিশে, যা তিনি তাঁর ‘নুকূশে রফ্তগাঁ’ গ্রন্থে লিখেছেন। মাওলানা তাকী উসমানী লিখেন: “১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো বংলাদেশে সফরে এলে কামরাঙ্গীর চর নুরিয়া মাদরাসায় মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর রহ.-র সঙ্গে সাক্ষাত হলো। তাঁর খিদমাতে একদিন কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে পেসিডেন্ট জিয়াউল হকের নামে একটি পত্র দিলেন। আমি পত্রটি পড়ার পর দেখলাম আমার ব্যাপারে কিছু কথা লেখা আছে। আমি হযরতের কাছে নিবেদন করলাম: আমার ব্যাপারে শেষের একটি লাইন কেটে দিলে ভালো হয়। হাফেজ্জী হুযুর তখন বললেন, চিঠি যেভাবে আছে সেভাবে থাকতে দাও এবং আমি যা বলছি তা করো। তুমি পত্রটি প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হককে পৌঁছে দেবে। মোটকথা হাফেজ্জী হুযুরের  সুপারিশের ফলেই আমাকে প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিযুক্ত করা হয়।” (দেশ-দেশান্তর, মাওলানা তাকী উসমানী, অনুবাদ: আব্দুল্লাহ আল ফারুক, লেখক পরিচিতি, ঢাকা।)  

আমীরে শরীয়াত মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুযুর রহ.-র অমূল্য উপদেশ:

হযরত হাফেজ্জী হুযুর রহ. কওমী আলিমবৃন্দকে একটি জরুরী নসীহাত করতেন যে, হিফযের উস্তাদ হোক বা কিতাবের উস্তাদ, বিশেষত যাঁরা দ্বীনি তালীম ও দ্বীনের বিভিন্ন বিভাগে খিদমাত করছেন তাঁদের প্রয়োজনীয় ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা ছাড়াও কোন শায়েখে কামিলের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করে এবং তাঁর সাহচর্যে বেশ কিছুদিন অবস্থান করে নিজের আমল-আখলাকের সংশোধন করে নেওয়া অপরিহার্য। শায়েখে কামিলের সাহচর্য  ব্যতীত আমল-আখলাকের সংশোধন হয় না। নিজের দ্বীনের হিফাজত ও সকল প্রকার দ্বীনি খিদমাতে ইখলাস পয়দা করার জন্যও শায়েখে কামিলের সাহচর্য অতীব প্রয়োজনীয়। হাকীমুল উম্মাহ হযরত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেছেন, “বর্তমান যুগে নিজের দ্বীন-ঈমানের হিফাজতের জন্য কোন শায়খে কামিলের সংসর্গ লাভ করাকে আমি ফরযে আইন মনে করি। (হযরত হাফেজ্জী রহ.: মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল হক, পৃ:২১-২২) 


আমরা যাঁদের হারালাম; তাঁদের মহান স্মৃতিকে সামনে রেখে আল্লাহ’র কাছে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি। আমীন।  শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা গাজী সাহেব হুযুর রহ. ও প্রখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা হারুন ইসলামাবাদী রহ.-র মহান স্মৃতি।




 মক্কা-মদিনায় সমাহিত ভারতবর্ষের মুসলিম মনীষীরা

জাওয়াদ তাহের

০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ 

কালেরকণ্ঠ

মক্কা-মদিনা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ভূমি। প্রত্যেক মুমিন মক্কা-মদিনা জিয়ারতের স্বপ্ন দেখে। আল্লাহর কাছে পবিত্র মক্কা ও সোনার মদিনার রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। হাদিসে এই পুণ্যভূমির অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সেখানে যারা অবস্থান করে, তাদেরও রয়েছে বিশেষ সম্মান। যে জমিনে রাসুল (সা.) হেঁটেছেন, সে জমিনে যারা বসবাস করে, সেখানে যারা মৃত্যুবরণ করে, তাদের ব্যাপারে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। এজন্য ওমর (রা.) রাসুল (সা.)-এর শহরে নিজের মৃত্যু আসার কামনা করতেন। জায়দ ইবনে আসলাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন, হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি প্রার্থনা করি, যেন তোমার রাহে শাহাদত করতে পারি। আর তোমার রাসুলের এই নগরে (মদিনা শরিফে) আমি মৃত্যু বরণ করি। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ৯৮৪)

আল্লাহ তাআলা তাঁর এই দোয়া কবুল করেছিলেন। শহীদও হয়েছেন, আর মদিনা শরিফেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় অনেক সৌভাগ্যবান ব্যক্তি পাওয়া যায়, যাঁরা মক্কা-মদিনায় মৃত্যুর আশায় রাসুল (সা.)-এর শহরে হিজরত করেছেন। ভারতবর্ষের এমন অনেক ব্যক্তি, কীর্তিমান মহান পুরুষ হিজরত করেছেন। নিম্নে আমরা তাঁদের কয়েকজনকে নিয়ে আলোচনা করব।

মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভি (রহ.)

মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভি। ভারতের উত্তর প্রদেশ অন্তর্গত কিরানায় ১৮১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সময়ের সেরা তার্কিক ব্যক্তি ছিলেন তিনি। খ্রিস্ট ধর্মের পাদ্রিদের সঙ্গে তিনি একাধিকবার মুনাজারা করেন। প্রতিবারই বাতিলকে পরাস্ত করেন। ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে তাঁর পড়াশোনা ছিল বিস্তৃত ও ঈর্ষণীয়। ভারতে তিনি ছিলেন খ্রিস্ট ধর্মের বিকৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। এ ব্যাপারে তিনি তিন খণ্ডের কিতাব লেখেন ‘ইজহারুল হক’ নামে। খ্রিস্টানরা মুনাজারায় (বিতর্ক অনুষ্ঠান) পরাস্ত হয়ে, এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। সেজন্য মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভিকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভি মক্কায় হিজরত করেন। সেখানে গিয়ে তিনি ‘আস-সাওলাতিয়া’ নামের একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ অবধি চলমান। ১৮৯১ সালে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। ‘জান্নাতুল মুআল্লা’য় উম্মুল মুুমিনিন খাদিজা (রা.)-কে যেখানে দাফন করা হয়েছে, সেখানেই তিনি সমাধিস্থ হয়েছেন।

হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি (রহ.)

কঠিন সংকটময় এক মুহূর্তে ভারতবর্ষের মুসলমানদের আশার আলো হয়ে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার অন্তর্গত ‘নানুতা’ নামক প্রত্যন্ত একটি গ্রামে ১৮১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি (রহ.)। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ে উলামাদের আধ্যাত্মিক রাহবার। আলেম-উলামাদের অভিভাবক ও আধ্যাত্মিক রাহবার হওয়ার কারণে তাঁকে ‘সাইয়্যিদুত তা-ইফাহ’ তথা আলেমকুল শিরোমণি উপাধিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। কীর্তিমান এই মনীষীর জীবনে জড়িয়ে আছে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য। তাঁর অসামান্য অবদানে ভারতবর্ষে ইসলামী আন্দোলনের জোয়ার ওঠে। তিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে ইলমে ওহির আঁতুড়ঘর দারুল উলুম দেওবন্দের উপদেষ্টা। ইংরেজদের বিতাড়িত করার অগ্র সেনানী ছিলেন তিনি। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিনি সেই পরোয়ানা কাঁধে নিয়ে অনেক কষ্টে মক্কায় হিজরত করেন। বাকি জীবন তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। ১৮  অক্টোবর ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে রোজ বুধবার ফজরের সময় আপন রবের ডাকে সাড়া দেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর তিন মাস ২০ দিন। মক্কা মুকাররমার জান্নাতুল মুআল্লায় ‘মাদরাসায়ে সাওলাতিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা রহমতুল্লাহ কিরানভি (রহ.)-এর সমাধির পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

খলিল আহমদ সাহরানপুরি (রহ.)

মাওলানা খলিল আহমদ সাহরানপুরি। এক শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। হাদিসের জগতে তাঁর অসামান্য অবদানে যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছেন মানুষের মণিকোঠায়। ছোট বয়স থেকেই তাঁর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতার বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছিল। সমকালীন আলেমদের থেকে ইলম অর্জন করার পর তিনি আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক গড়ে তোলেন যুগ শ্রেষ্ঠ ফকিহ, মাওলানা রশিদ আহমদ গাংগুহির সঙ্গে। ইলমের গভীর জ্ঞানে সমৃদ্ধ ছিলেন তিনি, বিশেষ করে হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রে। তাঁর কালজয়ী ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘বজলুল মাজহুদ’। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। ১৮৫২ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে সাহরানপুর জেলা নানুতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে তিনি রাসুলের শহর মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে প্রায় দেড় বছর অবস্থান করার পর ১৩ অক্টোবর ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান। মদিনা মুনাওয়ারায় ‘জান্নাতুল বাকি’তে তাঁকে দাফন করা হয়।

শাইখুল হাদিস জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)

যেসব মানুষকে নিয়ে যুগ গর্ব করে, যাঁদের অস্তিত্ব পৃথিবীকে সুন্দর করে, জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.) ছিলেন তাঁদের অন্যতম একজন। তাঁর পুরো জীবনটাই ছিল ঈর্ষণীয়। পুরো জীবনে তাঁর বিন্দুমাত্র সময় অহেতুক নষ্ট হয়নি। ইবাদত, শেখা-শেখানো, জিকির, শিক্ষকতা, আধ্যাত্মিকতা আর মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন নিজের পুরো জীবন। এলেম অর্জনের জন্য তাঁর মতো কষ্টসাধ্য খুব কম মানুষই করেছেন। এলেমের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, নিমগ্নতা আর একাগ্রতার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই স্তরে নিয়ে গিয়েছেন। তিনি তাঁর জীবনবৃত্তান্ত আলোচনা করেছেন স্বহস্তে লিখিত ‘আপ বিতি’ কিতাবে। তিনি তাঁর পুরো জীবন বিনা পয়সায় একমাত্র আল্লাহর জন্য পাঠ দান করেছেন। তৎকালীন সময়ে উলামায়ে কেরামের মধ্যমণি ছিলেন তিনি। তিনি একমাত্র ব্যক্তি, যিনি শাইখুল হাদিস উপাধিতে উপমহাদেশে খ্যাতি লাভ করেন। আরবি, উর্দু, ফারসি—তিন ভাষায় সমানভাবে পারদর্শী ছিলেন। সব ভাষায়ই তাঁর আছে প্রশংসাযোগ্য রচনাবলি। ২ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৮ সালে উত্তর প্রদেশের কান্ধেলা জেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শেষ বয়সে তিনিও মদিনায় হিজরত করে চলে যান। ২৮ মে ১৯৮২ সালে রাসুলের শহর মদিনা মনোয়ারায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রিয় ওস্তাদ, মাওলানা খলিল আহমদ সাহরানপুরি (রহ.)-এর পাশে ‘জান্নাতুল বাকি’তে তাঁকে দাফন করা হয়।

আশেক এলাহি বুলন্দশহরি (রহ.)

মাওলানা আশেক ইলাহি বুলন্দশহরি (রহ.) মুহাজিরে মাদানি ছিলেন একজন ভারতীয় ইসলামী পণ্ডিত। ১৯২৫ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশে বুলন্দশহর জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষাজীবন সমাপন করার পর কয়েক বছর নিজ দেশেই কর্মরত ছিলেন। পরে মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর অনুরোধে তিনি দারুল উলুম করাচিতে যান। সেখানে বেশ কয়েক বছর হাদিস ও তাফসির পড়ান। তিনি সেখানে ফতোয়া বিভাগের (দারুল ইফতা) দায়িত্বও গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত মুফতি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মুহাম্মদ জাকারিয়া কান্ধলভি (রহ.)-এর শিষ্য ছিলেন এবং বিখ্যাত তাফসির গ্রন্থ ‘আনওয়ারুল বয়ান’ রচনা করেন। পরে তিনি মদিনায় চলে যান, সেখানে তিনি তাঁর জীবনের ২৫ বছর অতিবাহিত করেন। মদিনায় তিনি ২০০২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ‘জান্নাতুল বাকি’তে এই মনীষীকে দাফন করা হয়।

তথ্যঋণ : নুজহাতুল খাওয়াতির, মুকাদ্দিমায়ে বাজলুল মাজহুদ, ইজহারুল হক


কোন মন্তব্য নেই: