মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনার গভীরে
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
মামুনুল হকের বক্তব্য ও হেফাজতের ঐক্য
মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনা-৭৯
গত ১৭ই মে, রোববার ১১ দলীয় সমঝোতার অন্যতম শরীক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রধান মাও.মামুনুল হক জামিয়া বাবুনগরে আমীরে হেফাজত মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। জামায়াতের সাথে নির্বাচনী মোর্চায় অংশ নিয়ে গত সংসদ নির্বাচনের পর এটাই আমীরে হেফাজতের সাথে মাও.মামুনুল হকের এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট হিসাবে প্রকাশ্যে কিছু বলা না হলেও ভেতরের সূত্র, প্রচারিত ভিডিও ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়, হেফাজতের বর্তমান বেহালদশা থেকে উত্তরণের চেষ্টা হিসাবে মাও.মামুনুল হককে আমীরে হেফাজতের কাছে নিয়ে এসে অন্তত একটি আপোষচিত্র নির্মাণের কুশিশ করা হয়েছে। বলাবাহুল্য, ২০২৫ সালে পীর সাহেব চরমোনাই কর্তৃক গঠিত এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় কথিত নির্বাচনী সমঝোতায় মাও. মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আরও একাধিক কওমীপন্থী ইসলামী রাজনীতিক দলের সাথে অংশগ্রহণ করে। তখন থেকেই আমীরে হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতের সাথে কওমীপন্থী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করার সমালোচনা করতে থাকেন এবং জামায়াতকে ‘গোমরাহ’ বা পথভ্রষ্ট আখ্যা দিয়ে শরীক কওমীপন্থী দলগুলোকেও ‘গোমরাহ’ বলে সমালোচনা করেন। জনাব আমীরে হেফাজত জামায়াতের মৌলিক দর্শন মওদূদী মতবাদ সম্পর্কে আহলে সুন্নাহর আকাবির ও আসলাফদের আদর্শের উল্লেখ করে জাতিকে তাঁর ভাষায় সতর্ক করতে থাকেন। ধীরেধীরে দৃশ্যত হেফাজত আমীরের সাথে মাও.মামুনুল হকের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তিনিই শুধু নন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন অন্যান্য কওমীপন্থী দলগুলোর সাথেও আমীরে হেফাজতের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আমজনতার মাঝে সঙ্গতকারণে হেফাজত বিভক্ত হবার ধারণা তৈরি হয়।বিভিন্ন সূত্রে আমি জেনেছি, মাও.মামুনুল হক বিষয়ে ১১ দলে থাকা নিয়ে হেফাজতের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আসতে একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির পরামর্শেই মূলত মাও.মামুনুল হকের বাবুনগরে আগমন। জামিয়া বাবুনগরে আমীরে হেফাজতকে পাশে রেখে মাও. মামুনুল হক যে ভিডিও বক্তব্য দেন তাতে কয়েকটি বিষয় পরিস্কার। প্রথমত, তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলে কেবল রাজনীতিক উদ্দেশ্যে ছিলেন বলে দাবি করেন। দ্বিতীয়ত, তিনি জামায়াতের ব্যাপারে উলামায়ে দেওবন্দের আদর্শকে বিশ্বাস ও অনুসরণ করেন বলেও দাবি করেন। প্রশ্ন হলো, কেন মামুনুল হককে এসব বলতে হলো? কেউ তো বলেননি, তিনি ১১ দলীয় সমঝোতায় গিয়ে মওদূদী মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে গেছেন। কেউ তো অভিযোগ করেননি যে, তিনি মওদূদী মতবাদ গ্রহণ করে উলামায়ে দেওবন্দের আদর্শ ও দৃষ্টিভঙ্গী ত্যাগ করেছেন। বাবুনগরে সে দিন তিনি যা বলেছেন তা তো আগেও বলেছেন। নতুন করে পুরনো কথা বলার দরকারটাই বা কি ছিলো? বিষয়টি নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। বলাবাহুল্য, জামায়াত নিয়ে দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের দৃষ্টিভঙ্গী নতুন কিছু নয়, অনেক পুরনো; উনবিংশ শতাব্দীর সেই চল্লিশের দশক থেকে য্খন মাও.মওদূদী সাহেব জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে অর্থাৎ ১৯৭৬ সালে জামায়াত যখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে তৎকালীন আমীর মাও.আব্দুর রহীম সচেষ্ট হয়ে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামী শক্তিগুলোর একতাবদ্ধ প্লাটফরম গঠনের কথা বলে নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি খতীবে আযম মাও.সিদ্দীক আহমদ রহ.কে উদ্বুদ্ধ করে আইডিএল বা ইসলামী ডেমোক্রেটিক লীগ গঠন করেন। জোটের নেতৃত্বে ছিলেন নেজামে ইসলাম প্রধান মাও.সিদ্দীক আহমদ। জামায়াতের পক্ষ থেকে খতীবে আযম রহ.কে সভাপতি মেনে নেয়ার প্রধান কারণ ছিলো জামায়াতের বিতর্কিত রাজনীতিক পরিচয়হেতু অস্তিত্ব সঙ্কট। জোট গঠিত হলে দেখা যায়, মাও.আব্দুর রহীম সাহেব ভেতরে-ভেতরে জামায়াতের কার্যক্রমকেই এগিয়ে নিচ্ছেন। এক পর্যায়ে জোটের চেয়ে জামায়াতের পদচারণাই প্রধান হয়ে ওঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে খতীবে আযম রহ. জামায়াতকে আইডিএল থেকে বহিস্কার করেন। ১৯৭৭ সালের ১০ই অক্টোবর ঢাকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত উক্ত সংবাদ সম্মেলনে নেজাম ইসলাম পার্টির প্রধান হযরত খতীবে আযম রহ.কে প্রশ্ন করা হয়, জামায়াতে ইসলামীকে বহিস্কারের কারণে আইডিএল দুর্বল হয়ে পড়লো কি না। জবাবে খতীবে আযম রহ. বলেন,
“টিউমার অপারেশন করে বের করে ফেললে স্বাস্থ্য খারাপ হয় না বরং সুস্থ ও সবল হয়ে ওঠে। জামাতীরা আইডিএল’র মাঝে টিউমারসরূপ বিরাজ করছিল। তাদের বহিস্কারের ফলে আইডিএল নিরুপদ্রবে কাজ করে যেতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।”
এরপরের ঘটনা ১৯৮১ সালে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ. বাংলাদেশের ইসলামী শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে বৈঠক করেন। ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে জামায়াতের সাথে মওদূদী মতবাদের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসে। বিষয়টিতে হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ. জামায়াতকে তাদের অবস্থান পরিস্কার করতে বলেন। তারা বৈঠকে মওদূদী মতবাদের বিশ্বাসী নন বলে দাবি করলে হাফেজ্জী হুযূর রহ. জাতির সামনে স্পষ্টভাবে ঘোষণার দাবি জানান। কিন্তু জামায়াত আজকাল করে-করে প্রকাশ্যে তো ঘোষণা দেনই নি বরঞ্চ বৈঠকেও অনুপস্থিত থাকেন। পরবর্তীতে হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ. সকল আলিমের সাথে পরামর্শ করে ঐতিহাসিক ‘সতর্কবাণী’ প্রকাশ করে জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করেন।
খতীবে আযম রহ. ও হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ.-র উপরোক্ত ঘটনা দু’টি এ জন্যই বর্ণনা করলাম, আমাদের মহান পূর্বসূরীদের আদর্শ ও চরিত্র কেমন ছিলো তা যেন আমজনতা বুঝতে সক্ষম হয়। রাজনীতিক কারণে জামায়াতের সাথে আহলে হকের জোটবদ্ধ হবার অতীত ইতিহাস আছে বটে কিন্তু সে সবের তিক্ত স্বাদও অকাট্য ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। পবিত্র হাদীসে আছে: لا يُلْدَغُ المؤمنُ من جُحْرٍ واحد مرتينঅর্থাৎ, মু’মিন এক-ই গর্তে দু’বার দংশিত হয়না। সে হিসাবে আমাদের অতীতের ঐতিহাসিক যাত্রা ভিন্ন রকম হবার কথা ছিলো। কিন্তু হয়নি। মাও.মামুনুল হক সাহেব দাবি করেছেন, তিনি তাঁর পূর্বসূরদের আদর্শে আজও বিশ্বাসী ও অনুসারী। তাই যদি হয়ে থাকে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় সমঝোতায় তিনি অংশ হলেন কি করে? এখানে দু’টি বিষয় প্রণিধানযোগ্য: এক, জামায়াতের সহযোগী হওয়া ও দুই,তাদের নেতৃত্ব মেনে নেয়া। মাও.মামুনুল হকের কথা মেনে নিলে প্রশ্ন ওঠে, আমাদের পূর্বসূরীবৃন্দ তো জামায়াতের সাথে কোন প্রকার রাজনীতিক বা অরাজনীতিক সমঝোতা বা জোট গঠনে অনুমতি দেননি। তদুপরি কোন বাতিল শক্তি বা ফিরকার নেতৃত্ব তো সীরাত বা উসূলে দ্বীনের মাপকাঠিতে মুসলমানরা মেনে নিতে পারেন না। দেওবন্দী উলামায়ে কেরাম তো মাও.মওদূদী সাহেবের জামায়াতকে বাতিল ও আহলে সুন্নাহ থেকে খারিজ বিবেচনা করেন। মাও.মামুনুল হক সাহেব কি তেমনটা মনে করেন না? মনেই যদি করে থাকেন, আহলে বাতিলের সাথে সহযোগী হওয়া এবং তাদের নেতৃত্ব কেমন করে মেনে নিলেন? যেহেতু তিনি ১১ দলে অংশ নিয়েছেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত হিসাবে জামায়াত-প্রার্থীদের এলাকায় জামায়াতকে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন সঙ্গতকারণে পূর্বসূরীদের আদর্শে বিশ্বাসী হলেও অনুসারী হবার দাবি তিনি বাস্তবে কতোটুকু প্রমাণ করতে পারবেন? সে প্রশ্ন নিবারণ করা যায় না। বিশ্বাস করি, আসলেই মাও.মামুনুল হক নির্বাচনী সমঝোতায় অংশ নিলেও জামায়াতের আকীদা-বিশ্বাসে তিনি কস্মিনকালেও বিশ্বাসী নন। কিন্তু সেটা মেনে নিলেও প্রশ্ন উঠে, তাঁর দ্বিচারিতা কি জাহির ও বাতিনকে পরস্পরবিরোধী করে তুললো না? আমার মনে হয়, এ বিষয়টিতে মাও.মামুনুল হক নিজেকে অস্পষ্ট করে ফেলেছেন বলেই তাকে জামিয়া বাবুনগরে নতুন করে বলতে হলো তিনি তাঁর পূর্বসূরীদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। শুধু তাই নয়, উক্ত বৈঠকে আমীরে হেফাজতকে পাশে রেখে তিনি দু’বার তাঁর ১১ দলে অংশ নেয়ার যৌক্তিকতা বয়ান করেছেন এবং সেখান থেকে সরে আসার কোন সম্ভাবনার কথাও তিনি বলেননি। এতে পরিস্কার যে, মাও.মামুনুল হক একদিকে যেমন দাবি করেছেন তিনি পূর্বসূরীদের পথ ত্যাগ করেননি অন্যদিকে জামায়াতের সাথে রাজনীতিক সমঝোতার অবস্থান থেকেও সরে আসেননি। এটাকে তাঁর এক ধরনের ‘মাশকুকুল হাল’ অবস্থান হিসাবে চিহ্নিত করা যায়। এখান থেকেই মূলতঃ হেফাজতের বিভক্তির ধারণা গড়ে ওঠে। মাও.মামুনুল হক হেফাজতের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির ধারণাকে যেভাবে বিভ্রান্তির প্রচারচেষ্টা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন তা কিন্তু বাস্তবে সঠিক নয়। কারণ, হেফাজতের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির ধারণা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলে কিছু কওমী দলের বাস্তব অংশগ্রহণ থেকে গড়ে ওঠে।
বৈঠকের আপাদমস্তক যা প্রদর্শিত হয়েছে তাতে আমীরে হেফাজত মাও.মামুনুল হকের পাশে নীরব বসেছিলেন। আমি জানি না, আমীর মুহতারাম তাঁর দুর্বল শ্রবণশক্তির কারণে কতোটুকু শুনতে পেয়েছেন। ভরা মজলিসে যাঁরা বসেছিলেন তাঁদের কেউই কোন কথা বলেননি; কোন প্রশ্ন তোলেননি। এই কথা না বলা থেকে আমীরে হেফাজতের ইতিপূর্বেকার সমালোচনাকে হয় প্রত্যাহার করা হয়েছে বা সহনীয় গণ্য করা হয়েছে বোঝা যায়। কারণ, মাও.মামুনুল হক তাঁর রাজনীতিক অবস্থান থেকে সরে আসার কোন চিহ্ন রাখেননি। তিনি বারবার বলেছেন, জামায়াতের সাথে অংশগ্রহণ আকীদাভিত্তিক সমঝোতা নয়; রাজনীতিক সমঝোতা। এবং এটাকে তিনি সর্বান্তকরণে বৈধ দাবি করেছেন। এখানেই আমীরে হেফাজতের মূল আপত্তি ছিলো। বৈঠকের এদিকটা নির্দেশ করে, মাও.মামুনুল হককে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে একটা মীমাংসা করার জন্য আমীরে হেফাজতের কাছে নিয়ে আসা হয়। প্রকৃতপক্ষে মীমাংসা কতোটুকু ফলপ্রসু হয়েছে তা সময়ে বোঝা যাবে।
গত ১৭ই মে’র বাবুনগরের বৈঠকে মাও.মামুনুল হকের ব্ক্তব্যের আলোকে আমরা কিছু বিষয় ইতোমধ্যে আলোচনা করে এসেছি। বৈঠকে উপসংহার টানা হয়েছে অবিভক্ত হেফাজত ও পূর্বাবস্থায় থাকার দাবি নিয়ে। আমরাও চাই হেফাজত এক ও ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে কিছু কথা বলতে হচ্ছে। কথা হলো, জনাব মামুনুল হক বলেছেন, তিনি জামায়াতপ্রশ্নে পূর্বসূরীদের আদর্শে অটল আছেন এবং ১১ দলীয় সমঝোতার নামে যা হয়েছে তা নিছক রাজনীতিক ঐক্য বৈ কিছু নয়। এখানে কিছু বিষয় উঠে আসে:
প্রথমত, মেনে নিলাম, তিনি নিছক রাজনীতিক ঐক্যের স্বার্থে জামায়াত নেতৃত্বাধীন সমঝোতায় যোগ দিয়েছেন। একজন আলিমে দ্বীন হিসাবে তাঁর কোন না কোন মুসলিহাহ ছিলো। কিন্তু আমাদের মতো গো-গর্দভরা তো কিছু প্রশ্ন করতেই পারি। ১১ দলের শরীক কওমী দলগুলোকে অনুসরণ করে যেসব কওমী তরুণ আর কর্মী ১১ দলকে সমর্থন দিতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরকে হালাল বুঝেছেন, মওদূদীপন্থার সমালোচনা করায় হযরত মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে অনলাইনে বা মেলা-মজলিসে গালমন্দ করেছেন, তাঁর কথাকে ‘বস্তাপঁচা’ বলে ধিক্কার দিয়েছেন তারা সবাই কি সেদিনের বৈঠকে পুনর্মিলনের প্রত্যয় ঘোষণা করতে এসেছিলেন? যাদেরকে মাও.মামুনুল হক সাহেববৃন্দ কেবল রাজনীতিক সমঝোতার নামে আধা-জামায়াতী বানিয়েছেন তাদের ফেলে জামিয়া বাবুনগরে এসে কি তিনি চরম স্বার্থপরতা দেখাননি? আহলে হকের পথ থেকে যারা বিচ্যুত হয়ে মুরুব্বী উলামায়ে কেরামের নিন্দায় সরব হয়ে নাফরমান প্রজন্মে পরিণত হয়েছে মাও.মামুনুল হক কি কাল কিয়ামাতের মাঠে তাদের হয়ে দাঁড়াবেন? জামায়াতীদের না হয় মুরুব্বী নেই; আকাবির নেই; আসলাফ নেই, আমরা তো তাদের মতো মুরুব্বীহীন সন্দেহযুক্ত প্রজন্ম নই। তাহলে মাও.মামুনুল হক সাহেববৃন্দ কেন নিছক রাজনীতিক ঐক্যের নামে উঠতি কওমী প্রজন্মকে দূষিত করার দায় নেবেন না? এ প্রশ্নের কি উত্তর আমরা পেতে পারি?
দ্বিতীয়ত, ১১ দলের নামে যা হয়েছে যুক্তি যাই হোক না কেন, কওমী যে আদর্শিকভাবে বিভক্ত হয়েছে—তা বাহ্যত হলেও মেনে নিতে হবে। কওমীকে সকল অপঘাত থেকে রক্ষা করতে কওমী আকাবির-আসলাফ শত বছর ধরে যে অক্লান্ত কুরবানী দিয়ে গেছেন তাকে ১১ দলের রাজনীতিক ঐক্য নিঃসন্দেহে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। অতীতে কোন সময়েই কওমী ঐক্যকে কেউ এমন করে আঘাত করতে পারেনি। একদিকে আমীরে হেফাজতের বক্তব্য অন্যদিকে জামায়াতীদের অনলাইন বিষোদগার আর ১১ দলের শরীক কওমী নেতৃবৃন্দের অভাবনীয় নীরবতা দেখে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। ফলাফল যা সামনে এসেছে তা হলো, ১১ দলের মূল প্রফিট বা লভ্যাংশ জমা হয়েছে জামায়াতের ঝুলিতে। কওমীরা পেয়েছে কেবল বে-হযম যন্ত্রণার দহন। যে জামায়াত অতীতে কখনো দুই অংকের সীমা পেরুতে পারেনি সেই জামায়াত কওমীদের ‘হেইয়্যো ঠেলায়’ ৭০টি আসন নিয়ে এখন বিরোধী দলে। জনাব মামুনুল হক কি বলবেন এ ব্যবসার লভ্যাংশ জামায়াত তাঁদেরকে কতোটুকু দেবে? চারদলীয় জোটের সময়ে দু’জন মন্ত্রী হয়ে কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়ে জামায়াতের ভূমিকা কি এতো সকালেই স্মরণ থেকে সরে গেলো? তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন কি বলেছিলেন? আমাদের আকাবির-আসলাফ কি জামায়াতের সাথে এমন বান্ধব হবার আদর্শ রেখে গিয়েছিলেন?
তৃতীয়ত, গত নির্বাচনে ১১ দলের তৎপরতায় কওমীরা যেভাবে ভেতর থেকে বিভক্ত হয়েছে তার নযীর এবারই প্রথম। জানি না এ ক্ষত আদৌ দূর হবে কি না বা কতোদিনে হবে। মনে রাখতে হবে এসবের সিংহভাগ দায় মাও.মামুনুল হককেই নিতে হবে। কারণ, তিনি ১১ দলে কওমী নেতৃত্বে সবার অগ্রে অবস্থান করেছেন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে নীরব থেকেছেন। মাও.মামুনুল হক যদি ১১ দলে যাবার আগে কওমী দলগুলোকে নিয়ে সবার উপস্থিতিতে একটি সম্মিলিত কওমী ইত্তিহাদ গঠনে চেষ্টা করতেন তবে ইতিহাস ভিন্ন রকমেরও হতে পারতো। সেখানে হেফাজতের সমর্থনও পাওয়া যেতো। আমীরে হেফাজতকে জামায়াত যেভাবে তাদের অনলাইন বাহিনী দিয়ে নানা অপবাদে আক্রমণ করেছে তা ৮০’র দশকের প্রথম ভাগে হাফেজ্জী হুযূর রহ.কে নিয়ে তাদের অপপ্রচারের স্মৃতিকে টেনে আনে। আমাদের মুরুব্বীরা বারবার বলে গেছেন, জামায়াত কস্মিনকালেও কওমীর শুভাকাঙ্খী হতে পারে না। তাঁদের এমন সতর্কবার্তাকে পাত্তা না দিয়ে ১১ দলের কওমী দলগুলো যেভাবে জামায়াতের পক্ষ হয়ে নীরব থেকেছেন তা কিন্তু ইতিহাসে ক্ষতচিহ্ন হয়ে লেখা থাকবে। এসবের দায় মাও.মামুনুল হকবৃন্দ কখনো এড়াতে পারবেন না। ১১ দল নিশ্চিত ক্ষমতায় যাচ্ছে—এমন ফাঁদে পা দিয়ে মাও.মামুনুল হক নিজেদের যে ক্ষতি করেছেন তা কিন্তু তাঁদের রাজনীতিক ভবিষ্যতকেই সন্দেহযুক্ত করে তুলেছে।
পরিশেষে বলতে হয়, ১৭ই মে’র বাবুনগরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শোকরানা মাহফিলের মতো সবার নীরবতা এবং কোন প্রশ্ন না তোলার চিত্র একদিকে যেমন আমীরে হেফাজতের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তেমনি জনাব মামুনুল হকের নিজ অবস্থানে অনড় থাকার যুক্তি কওমীদের অভ্যন্তরীণ মনস্তাত্বিক বিভক্তিকে প্রকটভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। কেবল হাতে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ইত্তিহাদ কায়েম হয় না। গাছপাকা আম খুশবুতে চেনা যায় আর ফরমালিনের আম রঙেই কেবল বিভ্রান্ত করে; স্বাদ ও খুশবুতে নয়।
29.05.2026
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কে জিতলো: নীতি না রাজনীতি?
মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনা-৭৮
রাজনীতি শুরু হয় নীতির আশ্রয়ে। বনী আদম যেমন অভিভাবকের আশ্রয়ে বড় হয়, ধীরেধীরে আরও বড় হয়; একদিন অভিভাবকের আশ্রয় থেকে দূরে সরে যায়, বুঝে নেয় নিজের চলার গতি ও গন্তব্য। তেমনি রাজনীতিও নীতির আশ্রয়ে বড় হয়ে মহাসড়কে পা রেখে নীতির অভিভাবকত্ব থেকে দূরে সরে যায়। ক্রমান্বয়ে নীতি হয়ে যায় তার কাছে অপরিচিত; আগান্তুক। যারা এটাকে মানতে নারায তারা রাজনীতির মাঠে অযোগ্য, অপদার্থ। এক সময় নীতির কদর ছিলো; রাজনীতি ছিলো মানুষের জন্য; রাজনীতিবিদরা কাজ করতেন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য; জুলুমের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে উদ্ধারের জন্য। এখন রাজনীতি উদ্ধারের জন্য নয়, গদির জন্য, নিজেদের ঝুলি ভরাবার জন্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে অভিজ্ঞতা এমনই। যে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার আগে গণমানুষের বন্ধু হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনিই দেশের গদি পেয়ে জালিমের অনেক রেকর্ডই ভঙ্গ করেন। এরপর শুরু হলো রাজনীতির এক নতুন মাত্রা—‘ইসলামী রাজনীতি’। বিশেষ করে হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ.’র ঐতিহাসিক আন্দোলনের পর আমাদের ইসলামী রাজনীতির দিক-প্রবাহ বদলে যেতে থাকলো ভিন্ন দিকে। নীতির আশ্রয় থেকে বেরিয়ে নিজেকে রাজা হিসাবে দেখার খাহেশ জাগলো আমাদের ইসলামী রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে। শুরু হলো পথচলা। চলতে-চলতে আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বারপ্রান্তে আমরা। নীতির গলায় ছুরি দিয়ে কওমীরা ভাগ হয়ে গেলেন দু’ভাগে। জামায়াত হয়ে গেলো প্রতিপক্ষ বিএনপি’র মতো সেক্যুলার। তাদের ইশতিহারীয় বিবর্তনবাদ পরখ করলে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় ‘মানুষ আসলেই বানর থেকে জন্মেছে’। জামায়াত কিভাবে নীতির কথা বলতে-বলতে নীতির কাছেই অপরিচিত হয়ে উঠলো তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘২৬’র ইশতিহার। ৮০’র দশকে যারা ‘বিপ্লব-বিপ্লব! ইসলামী বিপ্লব!’-র গগনবিদারী ধ্বনিতে হাট-মাঠ গুলযার করে তুলতো তাদের কাছে এখন আর ইসলামী বিপ্লবের স্বাদ ভালো লাগে না। এক সময় তারা ইরানের শিয়া-বিপ্লবের মডেলেও কাজ করতে চেয়েছিলো। এখন মার্কিন-মডেলের বিপ্লবের সুবাসে(!) তারা মাতোয়ারা। পশ্চিমাদের মনোরঞ্জন যেন অগ্রাধিকার। ওদের গাড়িতে বাকি যারা উঠেছে তাদের অবস্থাও ভাড়াবিহীন যাত্রীর মতো। মুখে স্বস্তি মনে অস্বস্তি। শুরুটা হয়েছিলো ইসলামী শক্তির ঐক্যবদ্ধ স্লোগানে। পরে দেখো গেলো, গাড়িতে উঠলো নতুন প্যাসেঞ্জার। তারা কিন্তু ইসলামী নয়। ড্রেসকোডও ভিন্ন। শুরু হলো নতুন-পুরাতন মন কষাকষি। অবশেষে মাঝপথে এক যাত্রীর প্রস্থান। পক্ষ হলো প্রতিপক্ষ। জামায়াত তাদের ‘ইসলামী’ ব্যানারকে সামনে রেখে নিজেদের খলিফা বানালো এক মুর্তিপুজক দেব-খলিফাকে। তবুও তারা ‘ইসলামী’। সঙ্গীরাও মেনে নিলেন নামস্বর্বস্ব ব্যানার। কারণ, এখানে রাজনীতির রাজ।কওমীদের মধ্যে বিভক্ত যে দু’ধারা এখন ভোটের মাঠে বে-লিবাসে পরিণত হয়েছে, তাদের কেউ বাতিলের সাথে মিশছে; কেউ মুশরিকদের শিরকের জন্য উৎসাহ প্রদান করছে। বাহ, কি চমৎকার! কতো নিষ্ঠুরভাবে হাদীসের ভবিষ্যবাণী সত্যে পরিণত হচ্ছে। অতীতেও রাজনীতিতে ধর্মের অপব্যবহার হয়েছে। তাঁরা বলছেন রাজনীতিক সমঝোতা। হ্যা, হতে পারে। কিন্তু যে মুসলিহার কথা বলে সমঝোতা হচ্ছে তা কি সীরাতে রসূল (সা.)’র সাথে সমাঞ্জস্যপূর্ণ? সীরাতে সমঝোতা হয়েছিলো ইহুদীদের সাথে কিন্তু নেতৃত্ব ছিলো স্বয়ং রসূল (সা.)’র হাতে এবং লিখিত। এখানে তো নেতৃত্ব বাতিল ও গোমরাহদের হাতে; সমঝোতা লিখিতও নয়। বাতিলের নেতৃত্বে আহলে হকের রাজনীতিক সমঝোতা কি শরীয়া কর্তৃক অনুমোদিত? এ কথা মানতে না চাইলে সরাসরি ঘোষণা করুন: জামায়াত আকীদাগত কারণ সত্ত্বেও আহলে হক ও আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের নেতৃত্বে কোন সমস্যা নেই। ঘোষণাও করবেন না আবার শরীয়ার দৃষ্টিকোণে বৈধ বলে দাবি করবেন—তা তো হয় না। এ ধরণের নৈতিক পরিবর্তন মেনে নেয়া কঠিন।মাস-দু’মাস হবে, দেখলাম, হাটহাজারী কলেজ মাঠে এক সুপরিচিত জ্বালাময়ী বক্তা ও ব্যক্তিত্ব মাঠ কাঁপিয়ে ঘোষণা করছেন: তিনি আগেও হযরত মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর ডান হাত ছিলেন, মৃত্যু পর্যন্ত থাকবেন। অথচ সেখান থেকে উঠে গিয়ে মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জামায়াতের সাথে বৈঠক করে বাম হাত বনে গেলেন। কি আজব মানযার! আরেকজনকে দেখলাম, বিএনপি’র সাথে জোটবদ্ধ এক দলের প্রার্থী হয়ে হাটহাজারী মাদরাসার সম্মিলিত শিক্ষকদের এক বৈঠকে বাতিল জামায়াত থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতিতে দোয়া নিচ্ছেন। মাদরাসার সম্মানিত পরিচালকও তাঁর সমর্থনে কথা বলছেন। এরপর দিন কয়েকের মধ্যে দেখলাম সেই প্রার্থী জামায়াতের নেতৃত্বে সমঝোতার অংশ হয়ে গেলেন। এখন বলুন, কি বলা যায়। কেউ রাজনীতির মাঠে যে কারো সাথে যেতে পারেন। কিন্তু একটা বলেকয়ে আরেকটা করবেন কোন যুক্তিতে? যাঁরা সেদিন তার পক্ষে দোয়া করেছেন তাঁদের কি মুখ পুড়লো না জাতির সামনে? এভাবেই রাজনীতির কাছে নীতি পরাজিত হয়। এখানে নীতিকথা খুব একটা মূল্য পায় না। তবে এটাও সত্য যে, দেখা যাবে সেই মানুষগুলো আবার কওমী মঞ্চে ঠিকই সমাদর পাচ্ছে; পাচ্ছে বেকসূরের জ্বলজ্বলে সনদ। অতীতের নমুনা তো তেমনই।
রাজনীতির জন্য নীতির বিষয়ে আপোষকামিতার দু’টি উদাহরণ এখানে দেয়া যায়। বর্তমান জামায়াত নেতৃত্বাধীন সমঝোতায় আবদ্ধ শরীকদের মধ্যে দু’টি অংশ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে জড়িত। এক: ’৭৬ সালে গঠিত আইডিএল এবং ’৮০’র দশকের প্রারম্ভে গঠিত আমীরে শরীয়ত হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ.’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। বলাবাহুল্য, আইডিএল বা ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ গঠিত হয় আজকের মতো সকল ইসলামী শক্তির ঐক্যের কথা তুলে ৭(পরবর্তীতে ১১ দল) দলীয় আসন সমঝোতার প্লাটফরমের মতো। সেখানে অবশ্য নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রধান কওমী-জগতের মহান ব্যক্তিত্ব খতীবে আযম মাওলানা সিদ্দীক আহমদ সাহেব রহ.। তা সত্ত্বেও তাঁর মতো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের এমন সিদ্ধান্তে কওমী-জগতের সবাই একমত হতে পারেননি। ভিন্নমত কাতারে ছিলেন বর্তমান আমীরে হেফাজতের মরহুম পিতা ও জামিয়া বাবুনগরের প্রতিষ্ঠাতা হযরত হারুন বাবুনগরী রহ.। পরবর্তীতে দেখা গেলো জামায়াতের চিরাচরিত নিজস্ব কৌশলীয় রাজনীতির কারণে খতীবে আযম রহ. জামায়াতকে জোট থেকে বহিষ্কার করেন। ততোদিনে ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেলো। জামায়াতকে বাদ দেয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত দিতে গিয়ে ১৯৭৭ সালের ১০ই অক্টোবর আহুত সাংবাদিক সম্মেলনে খতীবে আযম রহ. বলেন:
‘টিউমার অপারেশন করে বের করে ফেললে স্বাস্থ্য খারাপ হয় না, বরং সুস্থ ও সবল হয়ে উঠে। জামাতিরা আই,ডি,এল-এর মাঝে টিউমারস্বরূপ বিরাজ করছিল, তাদের বহিষ্কারের ফলে আই,ডি,এল নিরুপদ্রপে কাজ করে যেতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’
হযরত খতীবে আযম রহ. জামায়াতের সাথে বিরোধের ক্ষেত্র সম্পর্কে আরও বলেন:
‘বিশ্বাস ও আকীদার ক্ষেত্রেও বিরোধ রয়েছে। এবং সে মতবিরোধ পূর্বেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে আমরা সে সকল বিরোধকে রাজনীতির ক্ষেত্রে টেনে আনতে চাইনি, তদুপরি আমরা মনে করেছি, একতেলাফ তো মওদূদীর সঙ্গে, এরা জামাতে ইসলামী করেছে বলে তো আর মওদূদী হয়ে যায়নি। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের এ ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে তারা নিজেদেরকে মওদূদী মতবাদের সাচ্চা অনুসারী ও প্রচারকার্যে নিয়োজিতরূপে প্রমাণ করেছে।’
ইতিহাসের আরেক অধ্যায় হলো, হযরত হাফেজ্জী হুযূরের খেলাফত আন্দোলন। বর্তমান প্রজন্ম সেই আন্দোলনের বিষয়ে অনেকটাই জানার বাইরে। সে সময়ে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য প্রচেষ্টার জন্য তৎকালীন জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে হাফেজ্জী হুযূর কয়েকবার বৈঠকে বসেন। কিন্তু জামায়াতের চিরাচরিত হটকারী চরিত্রের কারণে ঐক্য প্রতিষ্ঠা ব্যর্থ হলে হযরত হাফেজ্জী হুযূর রহ. ৪৫২ জন গণ্যমান্য আলিমের দস্তখত সম্বলিত ‘সতর্কবাণী’ প্রকাশ করেন। সেখানে জামায়াত ও তাদের হটকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার উত্তরাধিকার হিসাবে একটি অংশ বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন সমঝোতার অংশ। তারা সচক্ষে দেখেছেন, শুনেছেন কেন হাফেজ্জী হুযূর রহ. জামায়াত সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করে গেছেন। অবশেষে জামায়াতকে তার আগের চরিত্রে দেখা গেলো বর্তমান আসন সমঝোতায়।
কথাগুলো আমি এ জন্য তুলে ধরলাম যে, রাজনীতির জন্য নীতি বা পূর্বসূরীদের আদর্শ গণ্য নয় এখন। বর্তমান রাজনীতিতে নীতির জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ; পরাজয়ের চিত্রটাই বেশি। কারণ, নীতি ধরে থেকে রাজনীতি করা যায় না বলে মনে করা হয়। জামায়াতের ইসলামকে ছেড়ে মার্কিন এম্বেসিতে গিয়ে নীতি বিসর্জনের যে ঘোষণা সেক্রেটারী জেনারেল জনাব তাহের প্রকাশ্যে দিয়েছেন তা কি আমাদের মানুষগুলোর জন্য আদৌ বোধ জাগাবার নয়? এ প্রশ্ন ইতিহাসে সংরক্ষিত থাকবে।
10.02.2026
.jpg)

