শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫

জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’র স্মরণসভা ও কিছু গুরুতর আপত্তি

ভাবনা-৬০

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী

আগাম কোন খবর আমার জানা ছিলো না হঠাৎ করে গত রবিবার অর্থাৎ ১৫ই জুন ফেইসবুকে দেখলাম নাজিরহাট সদরের একটি কমউনিটি সেন্টারে কথিত নাজিরহাট পৌরসভা হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’ একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয় প্রকাশিত ছবিতে অংশগ্রহণকারী যাদের দেখলাম, তাতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় কারণ, প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্মরণসভায় যদি শেখ হাসিনাকে দেখা যায় তাতে একজন স্বাভাবিক নাগরিকের যে অবস্থা হওয়া স্বাভাবিক, আমার অন্য দশজনের অবস্থাও হয়েছে তাই ছবিতে দেখা গেলো, প্রথম সারিতে বসা মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীর কট্টর সমালোচক প্রতিপক্ষ মাওলানা সলিমুল্লাহ সাহেবকে এরপর কয়েকজন চিহ্নিত রূহী-ফয়জুল্লাহ-আনাস চক্রের সক্রিয় সদস্য যারা প্রথম থেকেই হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীর চরম বিরোধিতা করে এসেছে এমন কি হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে জামায়াত-সংযোগসহ নানা কটুক্তিমূলক অপবাদও দিয়েছে এগুলো সচেতন পাঠকমাত্রেই সবাই জানেন বাকি যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের লোকজন, জুনায়েদ বাবুনগরী সম্পর্কে সুধারণা রাখেন নাএমন কয়েকজনকেও দেখা গেলো 

প্রথমে আসি মাওলানা সলিমুল্লাহ সাহেবের কথায় সবাই জানেন, হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.কে তুই-তোকারি হতে শুরু করে অকথ্য-ভাষায় প্রকাশ্যে, মঞ্চে, মাইকে গালাগালি করেছেনতিনি মাও.সলিমুল্লাহ -কথা অনস্বীকার্য বাস্তবতা-কথা সলিমুল্লাহ সাহেবও অস্বীকার করতে পারেন না। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, ভুল বুঝতে পেরে অবস্থান পরিবর্তন করলে সমস্যা কোথায়? কথা ঠিক সমস্যা হলো, তিনি বা উপস্থিত তার অনুসারীরা যে ভুল বুঝতে পেরেছেন, তার প্রমাণ কোথায়? মানুষ ভুল বা অপরাধ করবে কিন্তু ভুল বা অপরাধপরবর্তী ভুল বুঝতে পারা এবং অবস্থান পরিবর্তনের কোন ঘটনা প্রমাণীত না হলে তাকে কি গ্রহণ করা যায়? এখানে কিছু বিষয় পাঠকদের জানা থাকা দরকার বিগত ..২০২৪ রবিবার বাদ মাগরিব মাও.সলিমুল্লাহ সাহেব আকস্মিকভাবে জামিয়া বাবুনগরে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা.বা.’ সাথে সাক্ষাৎ করেন সেখানে যাওয়ার বিষয়ে পূর্বপ্রস্তুতি যে ছিলো না, তা নয় উক্ত সাক্ষাতের বেশ আগে থেকে কিছু সচেতন ব্যক্তি ফটিকছড়ি থেকে বিভক্তি দূর করতে মাও. সলিমুল্লাহ বাকি আলিম-সমাজের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপণের জন্য কাজ শুরু করেন প্রাথমিকভাবে কথা হয়, কাজটিতে নেতৃত্ব দেবেন জামিয়া বাবুনগরের বর্তমান শাইখুল হাদীস ফতোয়া বিভাগের প্রধান মুফতী মাহমূদ হাসান দা.বা.যেহেতু সৃষ্ট সমস্যা কোন ব্যক্তিনির্ভর নয়, সমষ্টিগত তাই কয়েক স্তরের মধ্য দিয়ে যেন সামগ্রিকভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে কথা হয় প্রাথমিভাবে মাও.সলিমুল্লাহ সাহেব সমস্যা-সমাধানে ইতঃস্তত বোধ করেন অবশ্য সমস্যার সমাধান নিয়ে মাও. সলিমুল্লাহ জামিয়া বাবুনগরের মুফতী সাহেব হুযুরের সাথে প্রস্তুতিমূলক বৈঠকও হয় কিন্তু মাও.সলিমুল্লাহ সাহেব তার সমস্যা-সমাধানে সম্মতি দেয়ার পরও বারকয়েক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে সমঝোতার চেষ্টা ঝুঁকিতে পড়ে যায় সমঝোতার বিষয়ে অবশ্য প্রথমদিকে মাও. মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর অনুমতি মতামত নেয়া হয় তাঁর সবুজ-সংকেত পেয়েই কাজ শুরু হয়সলিমুল্লাহ সাহেব শর্ত দেন, ফটিকছড়ির একজন সর্বগ্রহণযোগ্য আলিম-ব্যক্তিকে সমঝোতায় নেতৃত্ব দিতে হবে তখন প্রস্তাব করা হয় হযরত মুফতী সাহেবের নাম মাও. সলিমুল্লাহ তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তাতে সম্মতি জানান এরপর হযরত মুফতী সাহেব হুযূরের সিদ্ধান্তে ঠিক হয় একটি প্রাথমিক বৈঠক হবে ভুজপুরে হযরত মুফতী সাহেব হুযুরের বাড়ির মাদরাসায় তারিখও ঠিক হয় কিন্তু বৈঠকের দুয়েকদিন আগে মাও.সলিমুল্লাহ তার মাদরাসার দুজন শিক্ষক পাঠিয়ে প্রশ্ন রাখেন: বৈঠকে কী আলোচনা হবে? কোন বিষয়ে কথা হবে আর কোন বিষয়ে কথা হবে না, সেগুলো আগে ঠিক হতে হবে মাও.সলিমুল্লাহ সাহেব শর্ত দেন: যেহেতু মূল-সমস্যা নাজিরহাট মাদরাসাকে নিয়ে তাই সেটার সমাধান প্রথমেই হতে হবে তার কথায়: তিনি এখনো নাজিরহাট মাদরাসার বৈধ মুহতামিম, তাই তার মুহতামিম হওয়ার বিষয়টি সর্বাগ্রে সমাধান হতে হবে তাছাড়া, তিনি যাদেরকে(এলাকার মানুষ) নিয়ে পর্যন্ত কাজ করে এসেছেন, তাদেরকে ছাড়া বসতে পারবেন না মাও.সলিমুল্লাহর প্রতিনিধিকে জানানো হলো, তার মুহতামিম হওয়ার সমস্যাটি ভিন্ন, এখানে সমাধান হবে না কারণ, তা সমঝোতাকারীদের ইখতিয়ারভুক্ত নয়

সেখানে মজলিসে শূরা আছে তাছাড়া আদালতে তার করা মামলাও আছে আরও বলা হলো, আগে বৈঠকে বসুক, সেখানে সলিমুল্লাহ সাহেব হযরত মুফতী সাহেবকে যা বলার বলবেন সেখানেই সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী করণীয় নিয়ে জবাবে প্রেরিত প্রতিনিধিরা বলেন: তাহলে তাদের হুযুর বৈঠকে বসবেন না বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হযরত মুফতী সাহেবকে জানানো হলে হুযূর চরম হতাশা প্রকাশ করেন এখানেই সমঝোতার বিষয়টির ইতি ঘটে উল্লেখ্য, সমঝোতার একটি পরিকল্পনা ছিলো, প্রথমে মূফতী সাহেবের সাথে বৈঠক হবে তারপর সলিমুল্লাহ সাহবের সব কথা শোনার পর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে কথা হবে এবং সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে হযরত মুহতামিম সাহেবের সাথে এও কথা হয়, যদি সলিমুল্লাহ সাহেব সাক্ষাতে আসেন তাকে একথা বলা হবে যে, বিষয়টি যেহেতু ব্যক্তিগত নয়, সমষ্টিগততাই একটি দিন ধার্য করে ফটিকছড়ির উলামায়ে কেরামকে ডাকা হবে এবং সলিমুল্লাহ সাহেবের বিষয়টি সমাধানে করণীয় পরামর্শ আহ্বান করা হবে তাতে বিষয়টি সামগ্রিকভাবে সমাধানের পথ খুঁজে পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি

এখানে একটি প্রশ্ন তুলতে হয় তা হলো, সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হবার অন্য কোন কারণ ছিলো কি না? হ্যা, ছিলো পাঠকদের সুবিধার্থে সেটা পরিস্কার করা অনিবার্য আমি আগেই বলেছি, সমঝোতা নিয়ে মাও.সলিমুল্লাহ আগে থেকেই ইতঃস্তত ছিলেন আমার ধারণায় তিনি কিছুটা ভীত সিদ্ধান্তহীনতায়ও ছিলেন সে বিষয়ে সমঝোতাকারী প্রেরিত প্রতিনিধিদের কথায় আমি যা বুঝতে পেরেছি, তাই তুলে ধরছি সমঝোতার পদ্ধতি পরিণতি নিয়ে তার শঙ্কা ছিলো এর মূল কারণ, তার বিরুদ্ধে ভেতরে-বাইরে বহু অভিযোগের উপস্থিতি আসলে সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিলো প্রাথমিকভাবে ফটিকছড়ি আলিম-সমাজের সাথে দূরত্বের অবসান এবং আলোচনা সাপেক্ষে নাজিরহাট মাদরাসার সমস্যার নিরসন আরও একটি বিষয়ে মাও.সলিমুল্লাহর শঙ্কা ছিলো তা হলো, তার অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিষয়টিতে তার অবস্থান ছিলো: তিনি কখনো ক্ষমা চাইবেন না এবং এখনও তিনি সে অবস্থানে আছেন বলে আমি নিশ্চিত তাই, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সাক্ষাতের আগে তিনি বিষয়টি পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কোন প্রকার ক্ষমা চাইবেন না শর্তেই তিনি বাবুনগর যেতে প্রস্তুত পরবর্তীতে তার শর্ত মেনেই তাকে বাবুনগর যাবার সবুজসংকেত দেয়া হয় কিন্তু কিভাবে এটি সম্ভব হলো? বলছি সে-কথা আগেই বলেছি, জামিয়া বাবুনগরের হযরত মুফতী সাহেবের মাধ্যমে সমঝোতার যে উদ্যোগ নেয়া হয় বাহ্যিকভাবে সলিমুল্লাহ সাহেব সম্মতি জানালেও ভেতরে তিনি স্বস্তিতে ছিলেন না এ-রি মধ্যে হযরত মুফতী সাহেবের মাধ্যমে যে সমঝোতার চেষ্টা চলছিলো তা একটি চিহ্নিত সিন্ডিকেটের কাছে চলে যায় সম্ভবত তারা কখনো চায়নি সলিমুল্লাহ সাহেবের বিষয়টি হযরত মুফতী সাহেবের মাধ্যমে নিরসন হোক কারণ, তাতে সলিমুল্লাহ সাহেবের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকবে না বিষয়টি প্রথম আমি জানতে পারি সমঝোতাকারী ব্যক্তিবর্গের একজনের কথা থেকে তাদের একজন যখন মাও.সলিমুল্লাহর কাছে তার কালেক্ষপণের কারণ জানতে চান। তিনি বলেন, অমুক-অমুকও(নামোল্লেখ করা হলো না) বিষয়ে কাজ করছেন তখনি আমি বুঝে ফেলি, হযরত মুফতী সাহেবের মাধ্যমে সমঝোতা হবে না আর সলিমুল্লাহ সাহেবও দ্বিতীয় পক্ষকেই বেছে নিতে স্বস্তি বোধ করছিলেন তাই তিনি বিভিন্ন অজুহাতে হযরত মুফতী সাহেবের মাধ্যমে সমঝোতার পথকে এড়িয়ে গেছেন উক্ত দ্বিতীয় পক্ষই কোন প্রকার শর্ত ছাড়া সলিমুল্লাহ সাহেবের বাবুনগর যাবার পথ পরিস্কার করেছিলেন ফলে যা হলো, তাতে সলিমুল্লাহ সাহেবের সাথে হযরত বাবুনগরী দা.বা.’ সমঝোতা হলো বটে কিন্তু ফটিকছড়ি আলিম-সমাজের ইজতিমায়ী সমস্যার কোন সমাধান হলো না এটা যে, চিহ্নিত সিন্ডিকেটের কাজ তার প্রমাণ পাই সেদিন সাক্ষাতের পরপরই হযরত মুহতামিম সাহেবের সাথে সাক্ষাতের পরপর মাও.সলীমুল্লাহ সাহেব যখন হযরত মুফতী সাহেবের সাথে দেখা করতে যান, সেখানে প্রবেশ করা মাত্রই সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় ব্যক্তি উপস্থিত প্রথম ব্যক্তিকে ফোন করে বলেন: কি হযরত! আমিসহ সব কাজ করলাম আর আজ সাক্ষাতের বিষয়টি আমাকে জানালেন না এভাবেই একটি পরিকল্পিত সুন্দর সমঝোতার চেষ্টা সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে ব্যর্থ হয়ে যায় পরবর্তীতে দেখা যায়, সিন্ডিকেটর নিয়ন্ত্রণেই সলিমুল্লাহ সাহেব চলে যান এবং তাদের পরামর্শেই কথিত স্মরণসভায় যোগ দেন কিন্তু প্রশ্ন হয়ে রইল: তিনি যে বলেছিলেন, তিনি এখনও নাজিরহাট মাদরাসার বৈধ মুহতামিম এবং সবার আগে সেটার সমাধান হতে হবে, তবেই বৈঠক সমঝোতা আজ সে আপত্তির অস্তিত্ব কোথায়? তার কাছে সবিনয়ে জানতে ইচ্ছে করে, কেন তিনি অহেতুক এমন অজুহাত তুলে সমঝোতা থেকে সরে এসেছিলেন? এখানে কি নীতি বলে কিছু খুঁজে পাওয়া যায়?

আমাদের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা.বা.’ সাথে মাও.সলিমুল্লাহ সাহেবের বিরোধের বিষয়টি একক কোন সমস্যা নয় এর সৃষ্টি নাজিরহাট মাদরাসার মজলিসে শূরা(৩১.১০.২০১৮) থেকে সমস্যা জড়িয়ে ছিলো মাও. ইদ্রীস সাহেব রহ. মাও. জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’ সাথেও হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’ স্মরণসভায় মাও.সলিমুল্লাহ সাহেবের অংশগ্রহণ নিয়ে আরও কিছু কথা সামনে আসে এখানে মৌলিক প্রশ্ন আসে, তার কোন্ বক্তব্য সঠিক? আগেরটি না কি পরেরটি? যেহেতু তার আগের প্রতিক্রিয়া তিনি প্রত্যাহার করেননি বা সেটা থেকে সরে আসার কোন ঘোষণা দেননি, তাই আগের ব্ক্তব্যগুলোকে অগ্রাহ্য করার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না আবার স্মরণসভায় তার দেয়া বক্তব্য আগের দেয়া বক্তব্যকে যে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাও অস্বীকারের উপায় নেই উভয়কে সামনে রেখে যে বিষয়টি এখানে বিবেচিত হতে বাধ্য, তা হলো, মাও.সলিমুল্লাহ সাহেবের একটি নৈতিক বিচার সম্পন্ন হলো তার নিজেরই হাতে অর্থাৎ, আগের বক্তব্যে যা তিনি তীর্যকভাবে মাটিতে নিক্ষেপ করেছিলেন তা আবার স্মরণসভায় হাতে তুলে প্রশংসা করলেন এই দ্বিচারিতা ইতিহাসে সাক্ষী হয়ে থাকবে তবে তার জন্য দুঃখ হয় কারণ, তিনি মানুষ চিনতে বারবার ভুল করেন যারা তাকে স্মরণসভায় নিয়ে এসে মানুষের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছেন তারা কিন্তু এখন গ্যালারিতে বসে উপভোগ করছেন তারা কিন্তু এখন বলছেন না: মাও. সলিমুল্লাহ সাহেবকে আমরাই নিয়ে গেছি, কিছু বলার থাকলে আমাদেরকে বলুন। এরা কিন্তু সে-সব লোক যারা তাকে নিয়ে অতীতেও খেলেছে, এখনও খেলছে অতীতে তাকে যারা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে কৌশলে উস্কে দিয়েছেন আবার বাবুনগরে বিপরীত কথা বলেছেন, তারাই আজ তাকে স্মরণসভায় নিয়ে এসে পচনের গহ্বরে ফেলার পথ প্রশ্স্ত করছেন তিনি হয়তো মনে করছেন, ওদের হাত ধরেই রাস্তায় উঠবেন কিন্তু সে মরীচিকা সময়ই বলবে সে কি পথ না নতুন গহ্বর আমরা বলছি না, মাও.সলিমুল্লাহ সাহেব স্মরণসভায় এসে মহা-অপরাধ করে ফেলেছেন তিনি আসুন কিন্তু আগের ময়লা সাফ করে আসুন সবাই আপনাকে বরণ করবেগায়ে নাপাকও থাকবে আবার নামাযের নিয়্যতও হবে তা কি হতে পারে?  

এখানে একটি কথা আমি পরিস্কার করতে চাই মাও.সলিমুল্লাহ সাহেবের সাথে আমার দীর্ঘ ত্রিশ বছরের সম্পর্ক ছিলো আমি যা কিছু লিখেছি বা লিখছি তাতে আদাওয়াত বা ব্যক্তি-শত্রুতার কিছু নেইআমার অবস্থান হলো, অস্পষ্টতা দূর করতে এবং তাকে সতর্ক করতে আমার কলম কখনো বিরতি নেবে না ডাক্তারের অপারেশন বাহ্যিক দৃষ্টিতে রুঢ় কঠিন হলেও বাস্তবে তা শত্রুতামূলক নয়কথাটি মনে রাখা দরকার الحب في الله والبغض في الله- নীতিকেই আমি অনুসরণের চেষ্টা করি তাই যেখানে তার ইতিবাচক ভূমিকার কথা আসবে সেখানে তার যথাযথ সম্মান প্রদান মূল্যায়নে পিছপা হবো না কথাটি জন্য বললাম, একশ্রেণীর নিন্দুক ইতিবাচক জিনিসকেও নেতিবাচকরূপে প্রচার করে পরিবেশ ঘোলা করে কারণ,

لهم قلوب لا يفقهون بها ولهم أعين لا يبصرون بها ولهم آذان لا يسمعون بها

এবার আসুন, স্মরণসভার আয়োজক উপস্থিত কিছু মানুষের মূল্যায়ন করি প্রথম প্রশ্ন হলো, স্মরণসভা কেন? এটা কি আসলেই হেফাজতকেন্দ্রিক? যেহেতু ব্যানারে হেফাজতে ইসলামের নাম ছিলো তাই ধরে নিচ্ছি, অনুষ্ঠানটি হেফাজতের আয়োজনে তাই যদি হয়ে থাকে, প্রশ্ন আসে জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. তো প্রথম মহাসচিব বা আমীর ছিলেন না প্রথম মহাসচিব ছিলেন, আল্লামা সুলতান যওক নদভী রহ. এবং প্রথম আমীর ছিলেন আল্লামা আহমদ শফী রহ. তাঁদের স্মরণসভা আদৌ হয়েছে কি? হলো না কেন? তাঁদের কি কোন ইয়াদে খাঈর বা অবদান নেই? ঠিক আছে ধরে নিচ্ছি, অন্তত না হবার চেয়ে একটি তো হলো অয়োজকেরা সবাই জানেন, হযরত বাবুনগরী রহ. পছন্দ-অপছন্দ কি ছিলো, কারা তাঁর ঘনিষ্ট ছিলো; কারা তাঁর সম্পর্কে বেশি জানেন সেদিকটা কেন অগ্রাহ্য করা হলো? কাদের মঞ্চে দাওয়াত করা হলো? রূহী-ফয়জুল্লাহ চক্রের আচরণ কেমন ছিলোসে কথা কি আয়োজকেরা জানেন না?

যারা হয়রতকে কটাক্ষ করে ফেবুতে অনেক পোস্ট দিয়েছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, হযরতের সাথে সরাসরি বিয়াদবি করেছেতারা বা তাদের হোমড়া-চোমড়ারাই কি জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’ স্মরণসভার বরণীয় মেহমান? তারাই কি স্মরণসভার আসন অলংকৃত করেছে? কে ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.কে সামনাসামনি পা ভেঙ্গে দেবার হুমকি দিয়েছিলো, সে-কথা কি সবাই ভুলে গেছেন? কারা হযরতকে জামায়াতের দালাল বলেছিলো? কারা মাও.সলিমুল্লাহ সাহেবের মাদরাসায় গিয়ে তাকে কানেকানে বলেছিলো: হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীওহদাপোরস্তবা পদলোভী ছিলেন? আজকে তারাই হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীর স্মরণসভার আয়োজক আর মেহমান? হায় খোদা! আফসোস হযরত বাবুনগরীর জন্য তাঁকে অপমান করার কতো ঘৃণ্য পথই না আমরা অবলম্বন করে চলেছি তাঁর প্রতি আমাদের কি আজীব ইনসাফ ইহসান! ধিক, আমাদের কপটতাকে আমাদের মতো অযোগ্য, অর্বাচীন কুলাঙ্গার উত্তরসূরীকে ক্ষমা করুন হে আমীরে হেফাজত!

আমি অতীতে বারবার বলেছি, ফটিকছড়িতে হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’ স্মৃতি মুছে দেবার চেষ্টা হচ্ছে; ষড়যন্ত্র হচ্ছে তাঁর রেখে যাওয়া সংগঠন আর সিদ্ধান্তকে এখানকার মানুষের মন থেকে মুছে দেবার সুকৌশলে চেষ্টা হচ্ছে ধীরেধীরে জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. হয়ে যাবেন এক বিস্মৃত অধ্যায় দুর্ভাগ্যজনক সময় কি সত্যিই আসবে? আল্লাহ পানাহ অতীতেও বলেছি, কঠিন হলেও সত্য: আমাদের টপসয়েল বা উপরের মাটি নষ্ট হয়ে গেছে এখন নতুন মাটির দরকার তা না হলে আর ফসল ফলবে না আর নতুন মাটির একমাত্র নিগাহবান প্রজন্ম: আমাদের তরুণ আলিম-সমাজ তাঁদেরই হ্স্তক্ষেপে শুরু হবে আগামী দিনের নতুন সফর ইনশা আল্লাহ ইয়ে নূর হামেশা চমকা হ্যায়, ইয়ে নূর বরাবর চমকে গা আল্লাহ হাফিয।

১৮..০৬.২০২৫ 

কোন মন্তব্য নেই:

Featured Post

মার্কিন-জামায়াত সম্পর্কের অজানা অধ্যায়

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী ভাবনা-৭৭  সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন-জামায়াতের দৃশ্যম...