মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনা-৭৩
জামায়াতে ইসলামী কি একটি রাজনীতিক দল না কি ধর্মীভিত্তিক রাজনীতিক দল?—সে মীমাংসা এখনো হয়নি। পাকিস্তান আমলের জামায়াত আর বাংলাদেশ আমলের জামায়াতের রাজনীতি দেখুন, সে সংশয় জাগবে। জামায়াতও বিষয়টি সমাধান করেনি। কিন্তু তাদের তৎপরতা দেখে, অতীতের ইতিহাস দেখে নির্দ্ধারণ করা কঠিন: জামায়াতের রাজনীতির চৌহদ্দীর আকৃতি। আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় দেখেছি, তারা সাধারণত একটি বিশেষ কৌশলগত অবয়ব ও রহস্যজনক অভ্যন্তরীণ খোলসায়িত বলয়ে পদচারণা করতে অভ্যস্ত। বিষয়টিকে তারা ভেতরের পরম্মপরায় অনুশীলনে রূপ দিয়ে থাকেন। নিঃসন্দেহে তারা কঠোর নিয়ম ও ব্যবস্থাপনার বেড়াজালে নিজেদের আবৃত করে রাখে। তারা যা বলে তা কতোটুকু বিশ্বাস করে—সে বিষয়ে অন্যদেরকে সংশয়ে রাখাকে তারা সাফল্য হিসাবে দেখতে চায়। এ সংশয় থেকে তাদের বলয়ের বাইরের মানুষের কাছে তাদের নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তেমনই একটি সংশয় বা সন্দেহ: জামায়াত কি নিছক একটি প্রচলিত গণতান্ত্রিক রাজনীতিক দল না কি ধর্মীভত্তিক রাজনীতিক দল? এ প্রশ্নের আরও কারণ আছে। এক সময় জামায়াতকে দেশের সেক্যুলারগোষ্ঠী ও তাদের আন্তর্জাতিক বন্ধুরা জঙ্গী সংগঠন হিসাবে দেখতো। জামায়াতের জন্য বিষয়টি স্বস্তির ছিলো না। তাই তা থেকে বেরুতে জামায়াত চেষ্টার কম করেনি। বিশেষত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্কন্নোয়নে তারা ছিলো তৎপর। তারা যে এ কাজে সফল হয়নি তা নয়। ইতোমধ্যে জামায়াত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জঙ্গীর খাতা থেকে বেরিয়ে অজঙ্গী লাইসেন্স লাভ করেছে। ভারতের সাথেও সম্পর্কন্নোয়নের চেষ্টা করতে গিয়ে তারা ভারতকে বন্ধু মনে করে এবং তারা ভারতবিরোধী নয়—এমন বক্তব্যও দিয়েছে।অনেকের মনে থাকবার কথা, আওয়ামী আমলে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেতে তারা প্রচলিত গণতন্ত্রের স্বার্থে গঠনতান্ত্রিক মৌলিক নীতিতেও পরিবর্তন আনে। উদাহরণসরূপ বলা যায়, ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত জামায়াত তাদের মেনিফেস্টোতে(সাংবিধানিক সংস্কার-১) উল্লেখ করে:১. সর্বশক্তিমান আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হবে।
২. কুরআন ও সুন্নাহই হবে প্রজাতন্ত্রের সকল আইনের উৎস।
৩. কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
কিন্তু ২০১৯ সালের ২২তম সংশোধনীযুক্ত গঠনতন্ত্রে(ধারা-৩) বলা হয়:
“বাংলাদেশে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন।”
জামায়াতের মেনিফেস্টো ২০০৮ও তাদের নৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী। জামায়াতের নীতিগত এ পরিবর্তন জামায়াতের দীর্ঘদিনের মিশন ও লক্ষ্য সম্পর্কে জনগণের মাঝে সংশয়ের সৃষ্টি করে। এখন জামায়াত কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দেশ গড়ার পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ ও সমাজ গড়ার পথে আগুয়ান। আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম, জামায়াতের স্বীকৃত ও ঘোষিত সত্ত্বার চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে। জামায়াত আসলে কি চায়? এ প্রশ্নের মীমাংসা আজও হয়নি। তবুও আমার মতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক দল না বলে ধর্মাশ্রিত গণতান্ত্রিক দল বলাটাই যুক্তিযুক্ত হবে। তাহলে জামায়াতের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে সমালোচকদের বিশেষ কিছু বলার থাকবে না। জামায়াত এ নিয়ে তাদের অবস্থান পরিস্কার করতে পারে। তারা দলের নামও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’র পরিবর্তে ‘গণতান্ত্রিক জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ রাখতে পারে। আমার মনে হয়, এখানটায় অবস্থান পরিস্কার করতে না পারলে জামায়াতের রাজনীতি সংশয়পূর্ণ ও সন্দেহের আবর্তেই থেকে যাবে। জামায়াত আসলে ইসলামী দল কি না—সে প্রশ্নেরও আক্রমণ থেকে যাবে। এমনিতেই জামায়াতের ইসলামী হবার বিষয়ে দেশের উলামায়ে কেরামের ভিন্নমত আছে। সংশয়ের বিষয়গুলোকে সমাধান করা না গেলে জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে যেমন কথা উঠবে তেমনি ভোটের বাক্সেও তাদের রায় আসার ক্ষেত্রকে কম্পমান করে রাখবে।আমার বক্ষ্যমান প্রবন্ধের মূল বিষয় হলো, জামায়াতের নির্বাচনসংক্রান্ত অতীতের আলোকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তাদের চাওয়া-পাওয়ার অবতারণা। চব্বিশের বিপ্লবের পর এবং সম্প্রতি ডাকসু ও জাকসু’র ফলাফলে জামায়াত, শিবির ও তাদের সমমনা মানুষজন ভাবতে শুরু করেছেন: আগামী ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনে জামায়াতের ভিন্ন চেহারা দেখা যাবে। আমি বিষয়টিকে অতো সহজ ভাবি না। কারণ, এ-দেশের মানুষ, তাদের মনন, ইতিহাস-বিবেচনা ও তাদের উপর আলিম-সমাজের প্রভাবকে সামনে রাখলে জামায়াতের নৈর্বাচনিক ফলাফল নিয়ে সচ্ছন্দে হাত-পা নাড়ার সুযোগ নেই। জামায়াত সেটা কতোটুকু বোঝে, আমার জানা নেই। মনে রাখতে হবে, ডাকসু ও জাকসু’র ফলাফল একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি ও শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এগুলো নিয়ে জাতির একটি ক্ষুদ্র অংশের সচেতনতা থাকলেও বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জানাশোনা কম। অথচ বৃহৎ জনসংখ্যার ফয়সালাই চূড়ান্ত ফল ঠিক করবে। হ্যা, ছাত্র-সংসদের নির্বাচন হয় তো একটি সাময়িক আলোচনার জন্ম দেবে কিন্তু বিশাল সাগরের তুলনায় তা নগণ্য। তা’ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হবে আগামী সালের ফেব্রুয়ারীতে। সে বেশ দেরি। ততোদিনে ওসব নির্বাচনের কথা আলোচনার টেবিল থেকে বিদায় নেবে। ছাত্র-সমাজও নির্বাচনের সেই স্মৃতি ভুলে জাতীয় নির্বাচনের স্বপ্নে বিভোর হবে।
বলছিলাম, জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে। অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত মোট পাঁচ বার নির্বাচন থেকে দূরে থাকে। এর মধ্যে একবার দল হিসাবে নিষিদ্ধ হয় ১৯৭৩ সালে, দু’বার দলের নিবন্ধন বাতিল ২০১৪ ও ২০২৪ সালে। তারা নির্বাচন বর্জন করে দু’বার ১৯৮৮ ও ১৯৯৬(ফেব্রুয়ারী)তে। নির্বাচনে অংশ নেয় প্রথম ১৯৭৯ সালে(আইডিএল), ১৯৮৬ সালে, ১৯৯৬(জুন) সালে, ২০০১ সালে, ২০০৮ সালে এবং ২০১৮ সালে। এসব নির্বাচনে জামায়াতের আসন সংখ্যা: ১৯৭৯তে ৬, ১৯৮৬তে ১০, ১৯৯১-এ ১৮, ১৯৯৬তে ৩, ২০০১-এ ১৭, ২০০৮-এ ২ এবং ২০১৮তে ০। এর মধ্যে আবার জামায়াত ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে। প্রাপ্তভোটের শতকরা হারে তারা পায় ১৯৮৬ সালে ৪.৬%, ১৯৯১ সালে ১২.১০%, ১৯৯৬ সালে ৮.৬০%, ২০০১ সালে ৪.২৮% এবং ২০০৮ সালে ৪.৭০% ভোট। এ চিত্রের দিকে তাকালে জামায়াতের অতীতের নৈর্বাচনিক ছবি খুব একটা সুখকর নয়। মধ্যখানে ’৯১ সালেরটা বাদ দিলে বাকি পরিসংখ্যান খুবই দরিদ্র অন্তত তাদের পরিচিত সাংগঠনিক কর্মদক্ষতার প্রচারের তুলনায়। এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমানে জামায়াত কোন অবস্থানে আছে? বিশেষত বিগত ১৭ বছরের জালিম শাহীর শোষণপরবর্তী ’২৪-র বিপ্লবের উত্তরাধিকার হিসাবে জামায়াত নিজেদের সমর্থনকে কোন অবস্থায় নিয়ে যেতে পেরেছে বলে মনে হয়? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে আমিকিছু অনলাইন-সূত্র ও তথ্যকে অবলম্বন করি। জরিপকৃত তরুণদের ভাষ্য থেকে নেয়া তথ্যমতে জামায়াতের বিভাগভিত্তিক হার: ঢাকাতে ২৪.১০%, চট্টগ্রামে ২৬.৩০%, রাজশাহীতে ১৮.৭০%, খুলনায় ১৯.৪০%, বরিশালে ১৫.২০%, সিলেটে ২২.৬০%, রংপুরে ১৭.৯০% এবং ময়মনসিংহে ২০.৩০%। নারীদেরমধ্যে জামায়াতের বিভাগভিত্তিক সমর্থন চট্টগ্রামে ১৪-১৬%, ঢাকাতে ১২-১৪%, সিলেটে ১৩-১৫%, খুলনায় ১০-১২%, রংপুরে ৮-১০%, রাজশাহীতে ৯-১১%, ময়মনসিংহে ১০-১২% এবং বরিশালে ৭-৯%। তরুণদের কাছ থেকে নেয়া এই জরিপ মাঠের আসল খেলায় কতোটুকু বাস্তাবায়িত হবে তা কেউ জানে না। যে জায়াগাটা সবচেয়ে বেশি জরিপে প্রতিভাত হয়েছে তা হলো, এখনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ভোটারের হার যা ছিলো ২০২৪-এ ৩৭.৬০% তা ২০২৫-এ দাঁড়িয়েছে ৪৮.৫%-এ। সুতরাং খেলাটা হবে এখানেই। জামায়াতের নিজস্ব ভোটব্যাংক হয়তো আছে কিন্তু তার বাইরে কতোটুকু সংগ্রহ করতে পারবে—সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখা দরকার, ডাকসু ও জাকসুতে যে বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী শিবির-সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে তারা একবাক্যে বলেছে: তারা শিবিরের রাজনীতি বা তাদের আদর্শকে পছন্দ করে ভোট দেয়নি। তারা দিয়েছে ভার্সিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে। সুতরাং বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কতোটুকু অংশ জামায়াতকে সংসদীয় নির্বাচনে সমর্থন দেবে—তার উত্তর মোটেও সরল নয়।বলাবাহুল্য, সরকারের কথা মতো এখনো নির্বাচনের বাকি চার মাস। এ চার মাসে রাজনীতিক পরিস্থিতির অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। তাই, যে দলই হোক না কেন এখনি স্বপ্নে বিভোর না হওয়াই ভালো। যারা স্বপ্নে মগ্ন হবে তাদেরকেই ঘুম ভেঙ্গে মাথায় হাত দিতে হতে পারে। জামায়াতের জন্য আসন্ন নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে কিছু বিপদ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন কেউকেউ জামায়াতের সাথে কিছু ইসলামী দলের জোট বাঁধার যেসব কথা বলছেন, আমার মনে হয় না তা সহজে ঘটবে। কারণ, জোটের কথা কেবল বাহ্যিক; ভেতরের নয়। প্রতিটি দলেই চাইবে নিজেদের অবস্থা সংহত করতে। জোট হলেও সেখানটায় স্বার্থপরতার ঘাটতি হবে না। আর জামায়াতের নিজস্ব কৌশলগত রাজনীতির মুখোমুখী হয়ে অন্য দলগুলো কতোটুকু নিজেদের স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে—তা এক চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। জামায়াতকে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে যে কিছু বিপদের কথা বলেছি, সেগুলো হচ্ছে:১. ’৭১-এ তাদের ভূমিকার প্রশ্ন ও তাদের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পেতে পারে। এখানে জামায়াত অতীতের মতো সরাসরি কথা না বলে কৌশল অবলম্বন করবে বলে মনে হয়। তেমনটি ঘটলে জামায়াতবিরোধী একটি বলয় দেখা দেবে যা পরোক্ষভাবে বিএনপি’র আশ্রয় লাভ করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঘাঁপটিমারা ফ্যাসিবাদের দোসররা, কথিত সুশীলরা, জাফর ইকবালের মতো বুদ্ধিবেপারীরা সর্বোপরি ‘র’ সুযোগ অবশ্যই নেবে। জামায়াত যদি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সৎসাহস দেখাতে পারে তবে কিছুটা রক্ষা হতে পারে। এখনো জাতির বৃহত্তম অংশ ’৭১-র ব্যাপারে জামায়াতের কৌশলগত দুঃখ-প্রকাশ এবং ‘যদি’র আশ্রয় নেয়াকে পাকিস্তানের কর্তাব্যক্তিদের কৌশলের অনুরূপ মনে করছে। এটা জামায়াতের জন্য সমূহ বিপদের কারণ হবে। মনে রাখতে হবে, জামায়াত সম্পর্কে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বিরূপ। ডাকসু বা জাকসু’র মতো ফলাফলে তা প্রভাবিত হবে বলে মনে হয় না। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বলা যেতে পারে, ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে জামায়াতবিরোধী একটি শক্তির উত্থান ঘটতে পারে যা জামায়াতের কৌশলগত ভুলের কারণে শক্তি বৃদ্ধি করবে বলে মনে হয়।
২. আসন্ন নির্বাচনের আগে জামায়াতের আরেক প্রতিপক্ষ হতে পারে হেফাজতে ইসলাম। ইতোমধ্যে হেফাজত আমীরের জামায়াতের মওদূদী-মতাদর্শের বিরুদ্ধে দেয়া বক্তব্য হালে পানি পেতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগেও বিষয়টি নিয়ে আলিম-সমাজের মধ্যে নীরবতা থাকলেও এখন আওয়ায বড় হচ্ছে। হেফাজতের এমন অবস্থান বিস্তৃত হলে জামায়াত বেকায়দায় পড়বে। কারণ, দেশের তৃণমূলে হেফাজতভুক্ত আলিম-সমাজের যে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক রয়েছে তা জামায়াতের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হেফাজত আমীর মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সম্প্রতি দেয়া বক্তব্য: জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে কওমী মাদরাসা রাখবে না, জামায়াতের জন্য রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, জামায়াত কোন সমস্যাকেই সমূলে সমাধান করতে চায় না। বিভিন্ন কৌশলে তারা সমস্যাকে জিইয়ে রেখে নিজেদের ষোল আনা আদায় করতে চায়। এখানেই জামায়াতের ভুল রাজনীতির মূল নিহীত।
মোদ্দাকথা, বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতিক ভবিষ্যৎ সংশয়পূর্ণ। সাংগঠনিকভাবে তারা হয়তো অন্যদের চেয়ে দশগুণ এগিয়ে কিন্তু ভোটের রাজনীতিতে তারা বারবার নিজেদের ভুলে খেসারত দেয়। এটাই সম্ভবত তাদের নিয়তি। সেখান থেকে তারা যে বেরুতে পারবে, তেমন মনে হয় না। বিভিন্ন জরিপে প্রদর্শিত তাদের সমর্থন ও ভোটের পরিসংখ্যান মাঠে কতোটুকু সমর্থন করে, তাই বিবেচ্য।
16.09.2025
মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
জামায়াতের নৈর্বাচনিক অতীত ও ভবিষ্যৎ
রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
ঢাকসু ও জাকসু’র ফলাফল কী বার্তা দেয়?
মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনা-৭২
সুদূর বা অদূর অতীতে ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র-সংসদ নির্বাচন নিয়ে এতোটা আলোচনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু সম্প্রতি ঢাকা ভার্সিটির ছাত্র-সংসদের নির্বাচন নিয়ে যা হলো, মনে হলো জাতীয় নির্বাচন বুঝি হয়ে গেলো। আমি রাজনীতিবিদ নই, কোন সংগঠনের শীর্ষপদীও নই। তাই যথাযথ ব্যাখ্যা দেয়া সহজও নয়। তবুও যতোটুকু জানশোনা আছে; দুর্বল মস্তিষ্কে যা ধারণ করি সেটাকেই অবলম্বন করে দু’কথা লিখছি। কেন এমন হলো? কেন ঢাবির নির্বাচন এতো মাত্রা পেলো? কেমন করে দাঁড়িয়ে গেলো এমন ফলাফল? এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন আমার মতো অনেকেই। বিশেষত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবপরবর্তী সময়ে নতুন চিন্তা-ভাবনা থেকে যে নতুন দিনের প্রত্যাশায় জাতি বুক বাঁধলো—সে প্রত্যাশার নিরিখে চমকে উঠলাম ঢাবি’র ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখে। অবশ্য এমন হবার নিশ্চয়তা না থাকলেও আশঙ্কা ছিলো বিশেষ কিছু কারণে।দীর্ঘ সতের বছরব্যাপী ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির তল্পিবাহক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী দখলদারিত্বের যুগটি ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় কলঙ্কিত অধ্যায়। ছাত্র-জনতা ও কওমীদের সমন্বিত বিপ্লবহেতু ফ্যাসিবাদের উৎখাত না হলে আজও আমরা ভারতীয় উপনিবেশে বন্দী হয়ে থাকতাম। তখন আর ঢাকসু, চাকসু, জাকসু ইত্যাদির টুল-বেঞ্চে বসার সুযোগও হতো না। জাতির অনেক কৃতিসন্তানদেরও ঘরে ফেরা হতো না দেশের জন্য কিছু করতে। আজ আমরা স্বাধীন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত। তাই, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় এবং সর্বাত্মক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে পারলো ঢাকসু-জাকসু’র মতো নির্বাচন। এ কথা মনে রেখেই তুলছি ফলাফলের প্রশ্ন। বলাবাহুল্য, সতের বছরের ফ্যাসিবাদের সময় জাতি উৎকণ্ঠিত হয় অর্জিত অনেক কিছু বিসর্জনের ভয়ে। এ বিসর্জনের ভয় যেমন ছিলো, স্বাধীনতা-অখণ্ডতার; ’৭১-এ বাংলাদেশের অর্জিত ভূমি হারাবার; ভারতীয় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার; ইসলামী প্রভাব হ্রাসের তেমনি সর্বোপরি জাতি হিসাবে আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাধীন সত্ত্বা হারাবার। জাতি বারবার দেখেছে, যখন-ই এ দেশে বিপদের মাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন না কোন ফয়সালা নেমে আসে। ’৭৫ ও ’২৫ তার স্পষ্ট প্রমাণ। বলা দরকার, ফ্যাসিবাদে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ যখন নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করতে থাকে: এ ফিরাউনের কি পতন হবে না? তখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের জনমানুষের স্বীকৃত আশ্রয়স্থল বলে পরিচিত শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত জাতীয়বাদী দল ক্ষমতামুখী হয়ে গোপনে ভারতের সহানুভুতি অর্জন করার দিকে মনোনিবেশ করে। ভারতের কট্টর সাম্প্রদায়িক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে আমীর খসরু মাহমুদের লজ্জাষ্কর ছবি পুরো জাতিকে লজ্জিত করে তোলে। ভারত সফরে গিয়ে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শরীয়ত অস্বীকারের ঘোষণায় আমরা স্তম্ভিত হই। দেশের সর্ববৃহৎ দলকে নেতৃত্ব দেয়া একজন শিক্ষিত মানুষ যখন ভারতে গিয়ে ক্ষমতার স্বার্থে নিজের ধর্মকে অস্বীকার করে বক্তব্য দেয় তখন আমাদের আদর্শিক জায়গাটা ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হবার জোগাড়। এটা এমন একটা পরিস্থিতি যখন মানুষ নদীভাঙ্গনের তীব্র হানায় নতুন ভিটার সন্ধানে বের হয়।
ঢাকা ভার্সিটির সাম্প্রতিক নৈর্বাচনিক ফলাফল দেশপ্রেমী শিক্ষার্থীদের মানসে ঠিক তেমনই নতুন ভিটের সন্ধানের মতো এক অভাবনীয় বিবর্তন চলে আসে। সেখানে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ছাত্র-সংগঠন ছাত্র লীগের অনুপস্থিতি বিএনপি’র ছাত্রদলের জন্য এক মহাসুযোগ হিসাবে দেখা দেয়। এমন কি বড়দের মধ্যেও সে স্বপ্ন গেড়ে বসে। বড়রা ভাবে, হাতের মোয়া বুঝি মুখের কাছেই। তারা ভাবেননি, আবেগের যুগ পেরিয়ে একটি বিপ্লবোত্তর মানসিকতার ধারক হিসাবে সচেতন ছাত্র-সমাজ আদর্শিক জায়গাকে অক্ষত রেখে ব্যালট-বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। এ ছিলো অনেকটা কচ্ছপ আর খরগোশের দৌড়ের মতো ঘটনা। কচ্ছপ যে পৌঁছে গেছে সে খবর খরগোশ পেয়েছে সুখনিদ্রা ভাঙ্গার পর। তখন তো আর কিছুই করার ছিলো না। বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অসংখ্য সতর্কতার তোয়াক্কা না করে যেভাবে একগুয়েমি করে জাতি-রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তা ছিলো এক কথায় চরম আত্মঘাতী। তারা ভেবেছিলো, ছাত্ররা আর যাবে কোথায়? এর মোক্ষম জবাব শিক্ষার্থীরা মাঠেই দিয়ে দেখিয়েছে। যে শিবিরকে তারা গণনাতেই রাখেনি, ছাত্র-সমাজ তাদের নিরাপত্তার জায়গা থেকে ছাত্রদলকে এড়িয়ে শিবিরের পাল্লাতে ভোটগুলো রেখে দেয়।তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদর্শের কারণে বা শিবিরের রাজনীতি পছন্দ করে নয়, তারা ভোট দিয়েছে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে। বিশেষ করে, ছাত্রী ভোটাদের বিপুলভাবে শিবিরের বাক্সে রায় দেয়া তরুণ-সমাজের এক নতুন দিককে উম্মোচিত করেছে। সাথেসাথে তারা কিন্তু এও স্পষ্ট করেছে: তাদের এ রায় শিবিরের রাজনীতি ও আদর্শকে পছন্দ করে নয় বরঞ্চ নারী-নিরাপত্তার খাতিরে। এখানে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাই। তা হলো, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দখলদারিত্ব, অনৈতিকতাহেতু নিরাপত্তার অভাব, কুৎসিত দলীয় রাজনীতির দুর্গন্ধ ইত্যাদি থেকে বাঁচার আকুতি, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে যা প্রকটভাবে দেখা দেয়। পাশাপাশি মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ধর্মীয় গরজের অনুভব উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা দেয়। বিশেষ করে তাঁদের হিজাব ও পর্দা বিষয়ে সচেতনতা এক ব্যতিক্রমধর্মী দিগন্তকে উম্মোচিত করে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তরুণ ছাত্র-সমাজ ছাত্রদলের মতো কথিত মধ্যপন্থী দলকেও রায় দিতে রাজি হয়নি।
আমার উপরোক্ত বক্তব্যের প্রমাণ হলো, ঢাকসু’র অব্যবহিত পরে জাকসু’র নির্বাচনের ফলাফল। সেখানে কিন্তু অধিকাংশ পদে ছাত্র শিবির সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হলেও ভিপি পদে ছাত্র শিবির জয়ী হতে পারেনি। সেখানে রায় দেয়া হয়ে হয়েছে এক স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদকে যিনি শিবিরের প্রার্থীকে প্রায় হাজার খানিক ভোটে পরাজিত করে ভিপি হয়েছেন। অর্থাৎ, ডাকসুতে যেখানে শিবিরকে এগিয়ে রাখা হয়েছে সেখানে শিবিরকে পেছনে ফেলে জাকসুতে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে এগিয়ে আনা হয়েছে। এটিকে একটি Balance of activity বা সক্রিয়তার ভারসাম্য হিসাবে দেখা যেতে পারে। এখানে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে কিন্তু শিবির। কারণ, শিবির জানে ভার্সিটিগুলোতে তারা যে ভোট পেয়েছে আসলে তাদের সে ভোট বা অনুসারী নেই। এখন তারা যদি নিজেদের সর্বাংশে বিজয়ী মনে করে তাদের সনাতনী রাজনীতিতে মগ্ন হয় বা আদর্শ প্রচার করে তবে দেখা যাবে অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে এক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। তাই, তাদেরকে উভয়দিক সামলে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখী হতে হবে। হ্যা, তারা যদি কৌশলগতভাবে জামায়াতের প্রভাব এড়িয়ে তাদের আদর্শ বা সনাতনী রাজনীতি পরিহার করে ছাত্র-সমাজের চাওয়া-পাওয়ার সমস্যার সমাধানের দিকে নযর দিতে পারে তবে তারা নিরাপদ থাকতে পারবে বলে মনে হয়।
পরিশেষে বলতে হয়, এখানে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা কাজ করেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিক দলগুলো যদি এ থেকে শিক্ষা নিয়ে পথ চলতে না পারে তা হলে তারা কখনো তাদের সনাতনী গলাবাজি করে রক্ষা পাবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব সর্বোপরি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান পরিস্কার করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়েও তাদের হোঁচট খেতে হতে পারে। বিশেষত ভারতপন্থী মানসিকতাকে পরিহার করতেই হবে। অন্যথায়, ফ্যাসিবাদের পতনের পরও কথিত ডানপন্থী বলে পরিচিত বিএনপিকে ছাত্র-সমাজের প্রত্যাখ্যানের নযীর জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত হলে অবাক হবার কিছু থাকবে না। আমি বলছি না, জাতীয় পর্যায়ে জামায়াত জয়ী হবে। কিন্তু জয়ী না হলেও তাদের অর্জিত ভোটের হার তো বাড়তে পারে। এটাকে অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু তাই বলে বিএনপি’র মতো দলগুলোকে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবার সুযোগও কিন্তু জনগণ দেবে না। জনগণ হয় তো ‘না’ ভোটে যাবে অন্যথায় ডান-বাম বাদে অন্যকে কাছে টানবে। তবুও ভারতীয় আধিপত্যবাদপ্রশ্নে কোন ছাড় দেবে না। এখন প্রমাণ হয়েছে, তারেক, ফজলু, ফখরুল, আব্বাস, সালাহুদ্দীন, খসরুদের ছাত্র-সমাজ আর চায় না। তারা চায় একদল বাংলাদেশপ্রেমিক সৈনিককে যারা অতীতের কোন দাগ ছাড়াই জাতির আকাঙ্খাকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যাবে।
14.09.2025
বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. ও একটি সত্ত্বাগত মূল্যায়ন
মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনা-৭১
আমাদের দেশে জীবনী লেখা হয়, সমালোচনা লেখা হয় কিন্তু ব্যক্তির সত্ত্বাগত মূল্যায়নের চিত্র খুব কম দৃশ্যমান হয়। এর মূল কারণ, সমালোচনা বা মূল্যায়নের (تقييم) ক্ষেত্রকে ফরখ করার ব্যর্থতা। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত যে মাপকাঠি বা সূত্র ব্যবহার করি, সেটি স্পষ্ট নয়। তার চেয়ে বড় কথা, মূল্যায়নের জন্য আমাদের ধারণাও পরিস্কার নয়। একটি সত্ত্বার কোন বৈশিষ্ট্যকে উপরে-নিচে রাখতে হবে—সে বিচার করতে বা বিচারের পদ্ধতি প্রয়োগ করতে আমাদের দুর্বলতা খালি চোখে ধরা পড়ে। ফলে আমরা মূল্যায়ন করতে গিয়ে হয় অহেতুক প্রশংসায় গা ভাসাই অন্যথায় অপ্রাসঙ্গিক ইতিহাসের আশ্রয় নিই। সঙ্গতকারণে, ব্যক্তির মূল্যায়ন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। আর গঠনমূলক মূল্যায়ন না হলে, ব্যক্তিকে তাঁর সত্ত্বার নিরিখে চেনা যায় না। ধরুন, একজন মানুষের সত্যকথন ও স্বচ্ছ লেনদেনের গুণ আছে। এখন কোন কোন ক্ষেত্রে এ গুণদ্বয়কে পর্যায়ক্রম দিয়ে সাজাবো এবং পর্যায়ক্রমের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করবো—সেটাই মূল্যায়নের প্রাথমিক বিচার। এ বিচার করতে গিয়ে প্রয়োজন হয়, ব্যক্তির প্রাসঙ্গিক ইতিহাস বা ঘটনা এবং তার পটভূমি ও পর্যালোচনা। এরপর লাগবে, বিশ্লেষণ বা বিনির্মাণের পদ্ধতি। এগুলো মানা হলে দেখবেন, একটি বাস্তবসম্মত উপসংহার জাতিকে উপকৃত করবে। তাই উপসংহার মূল্যায়নের দৃশ্যমান আকার।হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’র মূল্যায়নের মতো সুকঠিন বিষয়ে হাত দেবার আগে একটি বাস্তব উদাহরণকে স্বীকার করে নিতে হয়। আমাদের কওমী অঙ্গনে এমন অনেক মনীষী ছিলেন যাঁরা নিজনিজ অঙ্গনে ছিলেন স্বমহিমায় উজ্জ্বল। তাঁদের খিদমাত, উম্মাহ’র জন্য তাঁদের হৃদয়কান্না আজও আমাদেরকে ঋণী করে রাখে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতি তাঁদেরকে চিনতেও পারেনি। শহরের লোকাল বাসের যাত্রীর মতো তাঁরা উঠেছেন আবার নেমে গেছেন। এটুকুই সার। তাঁরা চলে যান; সাথে তাঁদের সীরাতও মাদফূন হয়ে যায়। কোন তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না তাঁদের কুরবানীর বিশ্লেষণকৃত একটি অধ্যায় জাতির সামনে রেখে যেতে। এখানে তাঁদেরকে যদি আমি সজ্ঞানে ‘মাযলূম’ বলি—তবে কি অন্যায় হবে? হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.ও তাঁদের অন্যতম এক নক্ষত্র যিনি এসেছেন আবার চলে গেছেন পায়ের চিহ্ন ব্যতিরেকে। এ শূণ্যতার দায় আমাদের সবার। সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো, জীবদ্দশায় আমাদের কারো-কারো কাছে তাঁরা ছিলেন বিতর্কিত, অসহনীয় কিন্তু আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবার পর আমরাই হলাম তাঁদের অশ্রুসিক্ত ইয়াদগার। কবি নজরুল মরহুম কতো কঠিন সত্যই না বলেছেন:
“জীবনে যারে তুমি দাওনি মালা মরণে কেন তারে দিতে এলে ফুল,
মুখপানে যার তুমি চাওনি ফিরে তারি লাগি আজি কেন অশ্রু আকুল?”
হযরত বাবুনগরী রহ.কে আমি প্রথম দেখি ১৯৮৮ সালে জামিয়া বাবুনগরে। তখন তিনি মিশকাত শরীফ পড়াতেন। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাঁকে আমি দেখেছি, ছাত্র গড়ে তোলার এক অদম্য কারিগর; আসলাফ-আকাবীরের নমুনা হয়ে থাকবার প্রাণান্ত প্রয়াসী; ছাত্রদের মধ্যে বাতিল-বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান প্রদানে নির্ঘুম প্রহরী আর যুগের প্রয়োজনে দ্বীনের ব্যাখ্যা সৃজনে এক কিতাবমন্থনকারী হুদহুদ হিসাবে। জামিয়া বাবুনগরে যতোদিন ছিলাম, দেখিনি কখনো তাঁকে রাতের নিদ্রা যেতে। প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মধ্যরাত বা শেষরাত্রে উঠেছি, দেখেছি হযরত উপুর হয়ে কিতাবের গভীর সাগর থেকে মনিমুক্তা আহরণে মগ্ন। পুরো মাদরাসা তখন ঘুমে বেঘোর। সে এক ভিন্ন জগৎ যেখানে নশ্বর পৃথিবীর তাবৎ কোলাহল এ নিশাচর মুসাফিরের কাছে একেবারেই নিস্তব্ধ। হযরতের কামরায় তখন থাকতেন বর্তমানে জামিয়া বাবুনগরের অন্যতম মুহাদ্দিস মাওলানা হারুন আজীযী সাহেব। বয়সে তিনি আমার চেয়ে ছোট হলেও তাঁর সাথে আমার গভীর হৃদ্যতা ছিলো। একদিন তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, হযরতকে তো দেখি সব সময় কিতাব নিয়ে পড়ে থাকেন। রাতে খাওয়া-দাওয়া করেন কখন? হারুন আযীযী সাহেব বললেন: রব্বানী ভাই, ওগুলোর কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। কখনো রাত বারোটায়; কখনো তিনটায় আবার কখনো বিনা খাওয়াতেই কাটিয়ে দেন।
৮০’র দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশের কওমী অঙ্গনে আন্তঃমুনাযিরার যে মোহনীয় কাল ছিলো সে-সবের প্রাণকেন্দ্র ছিলো জামিয়া বাবুনগর। সাহাবায়ে কেরামের মি’য়ারে হক, তাকলীদ, ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যেসব মুনাযিরার আয়োজন করা হতো তার প্রাণপুরুষ ছিলেন হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী। তাঁর তত্ত্বাবধানেই রাতব্যাপী তর্কসভাগুলো দূরদূরান্ত থেকে আসা ইলমপিপাসু উলামা ও তালিবে ইলমদের খোরাক মিটাতো। সে-সময়কার অনেকেরই ’৮৯-’৯০ সালের সাহাবায়ে কেরামের মি’য়ারে হকের উপর আয়োজিত ঐতিহাসিক মুনাযিরার অবিস্মরণীয় স্মৃতি ভুলবার কথা নয়। কি উৎসব-উৎসব আমেজে সপ্তাহ আগে থেকে জামিয়া মেতে ওঠে। কয়েক মাস আগে ঘোষিত মুনাযিরার পক্ষ-বিপক্ষ প্রস্তুতি নিতে কিতাবের এক পহাড় গড়ে তোলে। বিভিন্ন মাদরাসা-প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দালায়িল তৈরি ও সংগ্রহ করতে তাঁরা মৌমাছির ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। সেই মুনাযিরায় পক্ষের নেতা ছিলেন, তৎকালীন দাওরার ছাত্র মাও. নাজমুল হক এবং বিপক্ষের নেতা ছিলেন একই জামায়াতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মুফতী গোলাম মা’বুদ রহ.। অসাধারণ এক তেজস্বী তরুণ আলিম ছিলেন মুফতী গোলাম মা’বূদ রহ.। আল্লাহ তাঁর মাগফিরাত দান করুন। যথারীতি নির্দিষ্ট দিনে জামিয়া আগত আলিম-উলামা ও অন্য মাদরাসার ছাত্রদের আগমনে সাজসাজ হয়ে উঠলো। নামাযে ইশার পর যে মুনাযিরা শুরু হয় সেটা ফযরের পূর্বেও শেষ হতে চায়নি। মুনাযিরার সভাপতি ছিলেন, উস্তাযুল আসাতিযা শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা ইসহাক আল গাযী রহ.। মুনাযিরায় ফরীকাইনের পরে প্রথম সারিতে ছিলেন শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.’র বিশিষ্ট খলীফা ও তিলমীযে রশীদ হযরত মাও.ওবায়দুর রহমান সাহেব রহ., মুহাদ্দিস হযরত মাও. আব্দুল বারী সাহেব বাশখালী রহ., মুহাদ্দিস হযরত মাও. ইউনুস সাহেব হাটহাজারী রহ., মুহাদ্দিস হযরত মাও. হাফিয হাবীবুল্লাহ বাবুনগরী সাহেব, হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ., জামিয়া বাবুনগরের বর্তমান শাইখুল হাদীস মুফতী মাহমূদ হাসান ভুজপুরী দা.বা., মাওলানা আবুল কালাম সাহেব রহ. প্রমুখ দেশবরেণ্য আলিমে দ্বীন। রাত তখন আড়াইটার মতো হবে, হযরত গাযী সাহেব রহ. সভাপতি হিসাবে মুনাযিরার সমাপণী বক্তব্য ও রায় দিতে শুরু করলেন। এবার শুরু হলো, ইলমের তীরবিহীন এক মহাসাগর হযরত গাযী সাহেব হুযূরের সাথে জামিয়ার উপরোক্ত বয়োজ্যেষ্ঠ উলামায়ে কেরামের প্রশ্নোত্তর পর্ব। সে এক আজীব ও গরীব মানযার! মনে হচ্ছিলো, সবাই এ ইলমী মহাসাগর থেকে কিছু সুধা পান করতে কতোই না পাগলপারা! হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ. গাযী সাহেব রহ.’র ইলমী গভীরতায় চমকে উঠলেন। অথচ হযরত বাবুনগরী রহ. আল্লামা ইউসুফ বিন্নূরী রহ.’র তিলমীযে রশীদ। এক পর্যায়ে রাত তখন ফযরের কিছু আগে হবে, হযরত বাবুনগরী জরুরতের কারণে মসজিদ থেকে বের হলেন। ঘটনাক্রমে হযরতের পিছুপিছু আমিও বের হলাম প্রাকৃতিক প্রযোজনে। জায়গাটা বাবুনগরের পুরনো মসজিদের উত্তর দিকের গেট পার হয়ে ক’কদম এগিয়েছি, হযরত বাবুনগরী পায়ের আওয়ায শুনে পেছন ফিরে আমাকে দেখে দাঁড়িয়ে স্বোচ্ছ্বাসে বলে উঠলেন,“গোলাম রব্বানী! মনে রেখো, এ শাখসিয়াত আর এ পৃথিবীতে জন্ম নেবে না। হযরতের কথাগুলো রেকর্ড করে রাখা দরকার। হযরতের পরে এ কথা আর শুনতে পাওয়া যাবে না।” সে দৃশ্য আমার জীবনে আজও অবিনশ্বর। বলছিলাম, এসব ইলমী অধ্যায় ও ছাত্র গড়ার কৌশলের পেছনে প্রাণপুরুষ ছিলেন হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.। তাই আমি বিশ্বাস করি, হযরতের জীবনের স্বর্ণযুগ কেটেছিলো জামিয়া বাবুনগরে।
হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীর এক বিস্ময়কর সত্ত্বাগত পরিচয় হলো, তিনি কেবল একজন মাদরাসায় পড়ুয়া আলিমে দ্বীন ছিলেন না; তিনি ছিলেন মুহাদ্দিসে কবীর আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ.’র সুযোগ্য রুহানী ফরযন্দ আল্লামা ইউসুফ বিন্নূরী রহ.’র তিলমীযে রশীদ। সম্ভবত তিনিই প্রথম বাংলাদেশে যুগ ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখে হাদীসে রাসূলের দারস প্রদান করতেন। এ জন্য তাঁকে রাতদিন গভীর পঠন ও গবেষণায় লিপ্ত থাকতে দেখেছি। মাঝেমাঝে আমার মতো গোমূর্খ হযরতের কামরায় গেলে হযরত যে অপার স্নেহের আবহে কথা বলতেন তা কখনো ভুলবার নয়। যেহেতু আমার মরহুমা মা হযরতের খালা, তাই হযরত রহ. দেখা হলেই আমার মা-বাবার হালাৎ জানতে চাইতেন। তাঁদের জন্য সালাম পেশ করতেন। কোন বিষয় নিয়ে কথা তুললে হযরতের বিস্তৃত ও বাস্তবমুখী জবাব শুনে বিমোহিত হতে হতো। তাঁর গবেষণাধর্মী চিন্তার এক বড় দিক ছিলো, বাড়িতে গড়ে তোলা পারিবারিক পাঠাগার। হযরত সেখানেও আমাকে নিয়ে গেছেন কয়েকবার। সেখানেই হযরত রহ.’র পিতা বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও মুসান্নিফে তানযীমুল আশতাত হযরত মাওলানা আবুল হাসান রহ.’র সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়। হযরত দা’ওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও যত্রতত্র বয়ান করতে যেতেন না। তিনি কিতাব আর গবেষণা নিয়েই থাকতেন। যে বছর তিনি তাঁর নিজের লেখা গ্রন্থ ‘সাইন্স আওর ইসলাম’ প্রকাশ করেন, আমাকে ডেকে নিয়ে একটি কপি হাদিয়া দেন। হযরতের যে জিনিসটি আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করতো তা হলো, তাঁর ব্যাখ্যা দেয়ার দক্ষতা ও বিস্তৃত ক্ষমতা। হাদীসের দারসে এটিই তাঁর ফুটে ওঠা এক বড় বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে উসূলে হাদীসে তাঁর সমকক্ষ বাংলাদেশে কেউ ছিলেন বলে জানা যায় না। এটা একবার তাঁর প্রিয় উস্তাদ হযরত মাওলানা সুলতান যওক নাদভী রহ.কে সরাসরি মঞ্চে বলতে শুনেছি। একবার সম্মিলিত আলিমদের এক সফরে তিনি আমাকে গাড়িতে সামনের আসনে তাঁর সাথে বসার নির্দেশ দেন। যথাবিহীত হুকুম পালন করে আমি সংকোচে বসে পড়লাম। গাড়ি চলতে শুরু করলে আমি সুযোগ পেয়ে হযরতের কাছে জাল হাদীস সংক্রান্ত একটি গ্রন্থের অবতারণা করলাম। হযরত তখন হাদীসের উপর সহীহ, যয়ীফ, মাওযু ইত্যাদি হুকুম প্রয়োগের ধারা ও কৌশল নিয়ে বলা শুরু করলেন। তিনি একটি হাদীসের উপর তিন দল: মুতাশাদ্দিদীন, মু’তাদিলীন ও মুতাসাহিলীনের মতামত, দৃষ্টিভঙ্গী, কৌশল ইত্যাদির অভিনব সমন্বয়মূলক বয়ান তুলে ধরে বলেন, সামান্য জেনে কোন হাদীসের উপর হুকুম লাগানো অন্যায়। আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম কেবল। আজও সে-সব মুক্তাঝরা কথাগুলো আমার মনে পড়ে। তাই, হঠাৎ করে আগপাচ না ভেবে কোন হাদীসের বিষয়ে হুকুম জারির বর্তমান প্রবণতাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভয় করি। তাই আমি বিশ্বাস করি, হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীর সত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্যের এক মহান দিক হলো তিনি সব কিছু ছাপিয়ে আল্লামা ইউসুফ বিন্নূরী রহ,’র সুযোগ্য ছাত্র হিসাবে উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত হাদীসবিশারদের জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে পূর্ণতা পায়নি ভিন্ন এক কারণে। সে কথায় পরে আসছি।
হযরত জুনায়েদ বাবুনগরীর জীবনের এক কঠিন ও আলোচিত অধ্যায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও পরবর্তীতে আমীর হওয়া। বিষয়টিকে হযরতের শুভাকাঙ্খীরা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। জানি না আমার মতো গোমূর্খের অবস্থানকে অন্যেরা সমর্থন করবেন কি না। হযরত প্রথম যখন হেফাজতের মহাসচিব হলেন আমার শঙ্কাটা জাগে তখনই। কেন জানি আমার বারবার মনে হতো, হযরত তাঁর চিরাচরিত চিন্তা ও গবেষণার পথ ছেড়ে ভিন্ন এক অপরিচিত পথে রওয়ানা হলেন। এ ধরনের কাজে অন্য কেউ আসতে পারতেন কিন্তু যিনি এ দুর্ভিক্ষের সময়ে উসূল ও ইলমে হাদীসের ঝাণ্ডা নিয়ে উপমহাদেশে দ্বিতীয় বিন্নূরী হবার কাছাকাছি যেতে পারতেন তিনি আজ হেফাজতে ইসলামের মতো একটি দলের নেতৃত্বে গিয়ে ভিন্ন এক পথে অগ্রসর হলেন। এখানে মোদ্দা কথায়, হযরত মাশহূর হলেন আবার বিতর্কিতও হলেন। যারা এক সময় এ মহান মুহাদ্দিসের জুতার পাশে বসার হিম্মাত পেতো না তারাও হযরতের পাশের চেয়ারে বসবার ধৃষ্টতা দেখাতে সক্ষম হলো। এ এক অবাক করা নিয়তি। কিন্তু আমরা হযরতের দ্বিতীয় বিন্নূরী হবার বিষয়টিকে এড়িয়ে গেলাম আমাদের চৈন্তিক গাফলতিতে। যুগসেরা হাদীস বিশারদের চেয়ে বেশি মূল্যায়িত করলাম তাঁকে হেফাজতের মহাসচিব ও আমীর হিসাবে। যুক্তি ছিলো, তিনি উপমহাদেশের হাদীসচর্চা ও হাদীসের আন্তর্জাতিকতায় অন্যতম সিপাহসালার হবেন কিন্তু আমরা আমাদের চিন্তার দীনতা-হীনতায় তাঁকে বানালাম—হেফাজত মহাসচিব বা আমীর। আমি তাঁর এ গতির পরিবর্তনকে পদোন্নতি নয়, পদাবনতি বলে মূল্যায়িত করতে চাই অন্তত একজন হাদীসবিশারদের তুলনায়। আমি বিশ্বাস করি, হেফাজত তাঁর অধীনে অনেক বৈপ্লবিক কাজ করেছে, সাথে এও বিশ্বাস করি: তার চেয়েও উপমহাদেশের উলূমুল হাদীসের আন্তর্জাতিকতায় তাঁর পদচারণা অব্যাহত থাকলে মুসলিমবিশ্ব অনেক উপকৃত হতো। এটাই অধীনের দুর্বল মূল্যায়ন। যাঁরা অধীনের মতো জাহিলের সাথে ভিন্নমত পোষণ করবেন তাঁদের কাছে করজোরে দুঃখ ও ক্ষমা চেয়ে এখানেই বিদায় চাইছি। তাম্মাৎ বিল খাইর।
11.09.2025
ভেতরের পাতা
Featured Post
জুলাই জাদুঘরে হেফাজত-ভাষ্কর্য: দায় কার?
মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী ভাবনা-৮২ সম্প্রতি জুলাই জাদুঘরে হেফাজতে ইসলামের ৫ই মে’র একটি হৃদয়বিদারক চিত্রকে অবলম্বন করে নির্মিত ভাষ্...










