সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫

মানবাধিকার অফিস ও জিজ্ঞাস্য বিষয়

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী 

ভাবনা-৬৩  

সম্প্রতি ঢাকায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের তিন বছর মেয়াদী হাইকমিশন অফিস খুলতে জাতিসঙ্ঘের সাথে অন্তবর্তী সরকারের একটি সমঝোতা স্মারক(এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ১০ই জুলাই উপদেষ্টা পরিষদে এ সংক্রান্ত খসড়া অনুমোদিত হয়। বিষয়টি খবরে আসার পর দেশে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যতোদূর জানা যায়, মানবাধিকার অফিসের কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে জাতিসঙ্ঘের প্রতিনিধি ফলকার টুর্ক বলেন, বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের এই সময়ে মানবাধিকারের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি যে ‘অন্যতম ভিত্তি’ হিসাবে রয়েছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাচ্ছে এই সমঝোতা স্মারক। তিনি আরও বলেন, “তথ্যানুসন্ধানের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা যাতে আরও ভালোভাবে দেওয়া যায়, সেক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে এই এমওইউ। পাশাপাশি মৌলিক সংস্কারের উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ও সহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের সরকার, নাগরিক সমাজ এবং অন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারব।” বাংলাদেশের তরফে এ নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন এ মিশন বাংলাদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করবে।

ঢাকায় মানবাধিকার অফিস খোলার খবরে দেশের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সমালোচনা ও আপত্তি আসতে থাকে। আমি এখানে সরাসরি সংবাদ পত্র থেকে আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরছি: অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের নামে ইসলামী শরিয়াহ, পারিবারিক আইন এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে। তারা মনে করে, এই ধরনের কার্যালয় স্থাপন করলে তা সার্বভৌমত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত আসতে পারে। বিশেষ করে এলজিবিটি অধিকারের ইস্যুটি বারবার সামনে এসেছে। হেফাজতে ইসলাম সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে। তাই, তারা এই ধরনের কার্যালয় স্থাপনে রাজি নয়। এ ছাড়া এনসিপির নেতা সারজিস আলমও আপত্তির কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাশক্তির অন্যায় আগ্রাসন, হত্যা, নির্যাতনের বিরুদ্ধে ওএইচসিএইচআর’র কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়া এবং তাঁর ভাষায় পশ্চিমের দাবি অনুযায়ী, মুসলিমদের জঙ্গি-সন্ত্রাসী তকমা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সমালোচকেরা মনে করেন, এই ধরনের কার্যালয় স্থাপন করা হলে তা দেশের ওপর একটি চাপ সৃষ্টি করবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।(আজকের পত্রিকা, ১৯শে জুলাই ২০২৫) সরকারের তরফে অবশ্য আপত্তির প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়: ‘ওএইচসিএইচআর মিশন কেবল গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, যেমনপূর্ববর্তী সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধপ্রতিরোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই কাজ করবে। এটি কোনো সামাজিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হবে না, যা বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে যায়।’ এ ছাড়া, সরকারের পূর্ণ সার্বভৌম অধিকার থাকবে এ চুক্তি থেকে সরে আসার, যদি মনে করে যে এই অংশীদারত্ব আর দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়: সরকার মনে করে, এই ধরনের একটি কার্যালয় আগের সরকারগুলোর সময় যদি থাকত, যখন বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যার মতো অপরাধ দায়মুক্তির সঙ্গে সংঘটিত হতো, তাহলে হয়তো অনেক অপরাধের তদন্ত, নথিভুক্ত ও বিচার হতো।(প্রাগুক্ত)

আগেই বলেছি, মানবাধিকার অফিস খোলার বিষয়ে আপত্তির কথা। সরকারের ভাষ্য এবং আপত্তিকারীদের বক্তব্যকে সামনে রেখে এখানে কিছু বিষয় জিজ্ঞাস্য:

প্রথমত: এ সরকার প্রচলিত অর্থে নির্বাচিত সরকার নয়; সুপ্রীম কোর্টের অনুমোদনে নির্বাহী কার্য সম্পাদনের নিমিত্ত একটি অন্তবর্তী সরকার। এ সরকার কিন্তু কোন অবস্থাতেই তত্ত্ববধায়ক সরকারও নয়। তবে এ সরকারের কার্যপরিধি নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। সে ভিন্ন আলোচনা। মনে রাখতে হবে, এ সরকার জুলাই-আগস্ট বিপ্লবপরবর্তী একটি সরকার যার পেছনে দেশের জনগণের শারীরিক ও মানসিক সমর্থন ছিলো, এখনো আছে। সমর্থনের শক্তিশালী দলীল হলো, বিগত সাড়ে পনের বছরের ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শক্তির গণহত্যা ও বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি এবং দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কারের দায়িত্ব অর্পণে দেশব্যাপী জনগণের শারীরিক ও মানসিক ম্যান্ডেট যা বিপ্লবের মাধ্যমে প্রমাণীত। এ সমর্থন বলা চলে, ব্যালটহীন তবে রাজপথের রক্তাক্ত সংগ্রামে দু’হাজারের মতো ছাত্র ও সাধারণ মানুষের কুরবানী ও কয়েক হাজার আহতের আর্তনাদের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত। তাই কোন ক্রমেই এ বিপ্লব বা এ সরকারকে ম্যান্ডেটহীন বলা যাবে না। বরং এ সরকারের ম্যান্ডেট একটি নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটের চেয়ে হাজারগুণ শক্তিশালী এবং অমোচনীয়। কিন্তু কোন ক্রমেই এমন ম্যান্ডেট নয় যে, যা খুশি, যা ইচ্ছা তাই করতে সক্ষম; কারও তোয়াক্কা করার প্রয়োজন নেই। সেদিক থেকে একটি প্রশ্ন করতে হয়: ড. ইউনুস ও তাঁর উপদেষ্টাবর্গ বিলক্ষণ জানেন, এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ মুসলিম এবং ধর্মাবেগী। চলমান বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম নির্যাতন ও বৈষম্যে পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘের নিস্ক্রিয়তায় এ দেশের মুসলিম জনসাধারণ ভীষণ ক্ষুব্ধ। তাই বাংলাদেশের মতো সংবেদনশীল একটি দেশে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার অফিস খোলা নিয়ে জনগণের বিশিষ্ট অংশীজন ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের আমন্ত্রিত করে বিষয়টিতে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের দায় অন্তর্বর্তী সরকার অস্বীকার করতে করতে পারেন না। যেহেতু উপদেষ্টাবর্গের মধ্যে ধর্ম উপদেষ্টা পদে একজন আলিম প্রতিনিধি আছেন, তাঁর মাধ্যমে হলেও বিষয়টিতে আলিম-ঊলামা ডেকে মতবিনিময়  করা যেতো। তা হলো না কেন?

দ্বিতীয়ত: জাতিসঙ্ঘ মোটেও কোন একটি রাষ্ট্র নয়। রাষ্ট্রের সমষ্টি রাষ্ট্রপুঞ্জ বা রাষ্ট্রসঙ্ঘ। যেহেতু এটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের একটি অফিস সঙ্গতকারণে এর একক রাষ্ট্রের চরিত্র থাকবে না সত্য, বহু রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বমূলক চরিত্র তো অবশ্যই থাকবে। অর্থাৎ এর উপর কোন আঘাত এলে সেটা সব দেশের উপর আঘাত বা হস্তক্ষেপ বলে ধরে নেয়া হতে পারে। এ যুক্তি কি অনস্বীকার্য? এ যুক্তি মেনে নিলে, ভবিষ্যতে এ কার্যালয় তো আক্ষরিকার্থে না হলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে সব দেশের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম হতে পারে বা হবে। আমরা বলবো, এটাই অধিকতর সম্ভব। আমাদের চট্টগ্রামে আঞ্চলিক রীতিতে একটি প্রবাদ আছে: গা-রা সোজা হা-রা সোজা ন। অর্থাৎ কোন জিনিসকে গেড়ে দেয়া বা ভিত্তি করে দেয়া সহজ কিন্তু প্রত্যাহার করা বা তুলে ফেলা অতো সহজ নয়। এখানেও ঠিক একই কথা। যে মেয়াদের চুক্তিই হোক না কেন আপনি বসাতে পারবেন কিন্তু তুলতে সমস্যা আছে। ঐ যে বললাম, এটি একটি রাষ্ট্রের বিষয় নয়, বহু রাষ্ট্রের বিষয়। এটি নিয়ে সব রাজনীতিক দল ও অংশীজনদের সাথে আলাপ-আলোচনার প্রয়োজন ছিলো। সেটি করা হলো না কেন? খোদা না করুন, পরে তা নিয়ে বড় কোন সমস্যা তৈরি হলে সে দায়িত্ব কে নেবে? তখন তো ড. ইউনুস ও তাঁর উপদেষ্টাবৃন্দ কবরে থাকতে পারেন।

তৃতীয়ত: হেফাজতে ইসলাম ও ধর্মীয় দলগুলো এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধিতা করেছে। এখানে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে উলামায়ে কেরামের কথায় আসি। তাঁরাও ঢাকায় জাতিসঙ্ঘ অফিসের বিরোধিতা করেছেন। এখানে একটি কথা বলা দরকার। আমাদের আলিম-সমাজের অতীতের আন্দোলনের দিকে তাকালে একটি বিষয় নযরে আসে। তা হলো, কর্মসূচী বা ঘোষণা দেয়ার আগে আলোচিত বিষয়বস্তুর উপর পর্যাপ্ত গবেষণা ও বিশ্লেষণ হয় না। ফলে কখনও দেখা গেছে তাঁদের গৃহীত সিদ্ধান্ত বা কৃত মন্তব্যের সাথে হাকীকত বা আসলের সম্পর্ক দুর্বল বা একবারেই নেই। ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতের আন্দোলনের কথা অনেকেরই মনে থাকবার কথা। অগ্নিঝরা বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত দেয়ার পর দেখা গেলো সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হেফাজত নেতৃবৃন্দ সঠিক জবাব দিতে পারছেন না। প্রশ্ন করা হলো: ব্লগার বলতে আপনারা কাদেরকে বোঝাচ্ছেন? ব্লগ কি? আপনি কি নিজে পড়েছেন? এসবের উত্তর ছিলো একেবারেই হতাশাব্যঞ্জক। সেদিকে বিস্তারিত আর গেলাম না। এখানেও কি ঠিক অতীতের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে? একটু ভাবা দরকার। কৈ, আমরা তো দেখলাম না, উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে জাতিসঙ্ঘ অফিস নিয়ে কোন আলোচনাসভার আয়োজন করতে, মতবিনিময়সভার আয়োজন করতে বা কোন কমিটি করে দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে। কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়েও এক-ই কাণ্ড ঘটেছে। আমরা বুঝলাম না, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করতে আমাদের এতো অনীহা কেন? চট করে একটা কিছু বলে দেয়ার বাসনা আমাদের ভেতরে এতো জন্মায় কেন?

বলাবাহুল্য, উপদেষ্টা পরিষদে আলিম প্রতিনিধি জনাব খালিদ হোসেন সাহেবও তো আছেন। তাঁর সাথে কি কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে? মতবিনিময় হয়েছে? খবরে তেমন কিছু তো দেখা গেলো না। আচ্ছা, মানবাধিকার অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে উপদেষ্টা পরিষদে যে খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সেখানে তো খালিদ সাহেবও দস্তখত করেছেন বলে মনে হয়। তখন তাঁর সাথে কেন আলোচনা করে আলিম-সমাজের অনুভূতির কথা জানিয়ে দেয়া হলো না? আলোচনার পরও যদি আলিম-সমাজ মনে করতেন যে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাঁদের আপত্তি আছে তাহলে সেটা তাঁরা সাংবাদিক সম্মেলনে যুক্তি উত্থাপনের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে পারতেন। এতে বিরোধিতার যৌক্তিক দিক প্রকাশিত হতে পারতো। কিন্তু তা তো করা হয়নি। মিডিয়াতে হেফাজতের বিবৃতি নিয়ে বলা হচ্ছে: এরা সবকিছুতেই বিরোধিতা করে। এগুলো তো এক ধরনের অপমান। হেফাজতের সবকিছু যিনি সামলাচ্ছেন সেই আজিজুল হক ইসলামাবাদী, তিনি তো ধর্ম উপদেষ্টার ঘনিষ্টজন ও ছাত্র। তিনি কেন তাঁর শিক্ষকের সাথে বিষয়টি তুললেন না? কিন্তু হুংকার তো ছাড়ছেন; অবিরত হেফাজতের আমীর কর্তৃক স্বাক্ষরিত বিবৃতি পাঠাচ্ছেন। এগুলো আসলে আমাদের দূরদর্শীতার অভাবকেই নির্দেশ করে। গত ২০শে জুলাই ২০২৫ তারিখ রবিবার বেলা ৩টায় আল-হাইআতুল উলয়ার প্রতিনিধিদল কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা ও মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সেখানেও তো বিষয়টি তোলা যেতো। হয়েছে কি?

আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, আমাদের উলামায়ে কেরামের যে অংশটি রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট তাঁরা আসন্ন নির্বাচন ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে যতোটুকু আন্তরিক জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার অফিস নিয়ে ততোটা আন্তরিক নন। এ যেনো নেহায়েত কিছু বিবৃতি দিয়ে, আন্দোলনের হুমকি-ধমকি দিয়ে দায় সারানো মাত্র। ড. ইউনুসের সাথেও তো হেফাজত বা উলামায়ে কেরাম নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করে কথাগুলো তুলতে পারতেন। এতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীও জানা যেতো। তাও হয়নি। ইতোপূর্বে তাঁরা তো কাতারে-কাতারে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে ছবি তুলেছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এখন সে রাস্তা বন্ধ কেন? আসলে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে; সংলাপ করে সমস্যা সমাধানে আমাদের ইতিহাস বড়ো সুখের নয়। অগ্নিঝরা বক্তব্য, আন্দোলনের হুমকি, সব অচল করে দেয়ার ধমকি ইত্যাদি আমাদের সম্বল। এর বাইরে গিয়ে ক’কদম দেয়ার যোগ্যতা আমাদের নেই। জানি না আমাদের সম্বিৎ কবে ফিরবে।

21.07.2025

কোন মন্তব্য নেই:

Featured Post

মার্কিন-জামায়াত সম্পর্কের অজানা অধ্যায়

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী ভাবনা-৭৭  সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন-জামায়াতের দৃশ্যম...