মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী
ভাবনা-৭০
(মাইক্রোসফট কো-পাইলটের সাথে প্রশ্নোত্তরের পর উপস্থাপিত প্রবন্ধ।)
ভূমিকা:
বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির ছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতি যেমন ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তেমনি আজ তা অনেকাংশে সহিংসতা, দলীয় দখলদারিত্ব এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায়, আমি প্রস্তাব করছি—পরবর্তী দশ বছর দেশের প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখা হোক, পরীক্ষামূলকভাবে। দেখা যাক, এতে শিক্ষার পরিবেশ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসে কি না।উদ্দেশ্য:
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো—
- শিক্ষার পরিবেশ পুনরুদ্ধার
- দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমী জনবল তৈরি
- সহিংসতা ও দলীয় প্রভাব হ্রাস
- নেতৃত্ব বিকাশে বিকল্প পথ উন্মোচন
প্রয়োগের কাঠামো:
পরিকল্পনাটি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে দেশের ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ১০টি সরকারি কলেজে। সময়কাল হবে ২০২৬ থেকে ২০৩৬ পর্যন্ত। এই সময়কালে প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি রাজনীতি-মুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
নীতিমালা:
- দলীয় ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে
- অরাজনৈতিক ছাত্র-সংসদ গঠন করা হবে, যেখানে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে শিক্ষার্থীদের ভোটে
- বিতর্ক, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, উদ্ভাবনমূলক সংগঠন সক্রিয় রাখা হবে
- শিক্ষকদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা হবে
- ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও সহিষ্ণুতা বজায় রাখা হবে
ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত:
দশ বছর শেষে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। যদি দেখা যায় শিক্ষার মান, নেতৃত্ব বিকাশ, সহিংসতা হ্রাস এবং কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তাহলে এই মডেলকে স্থায়ীভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। অন্যথায়, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে।
উপসংহার:
আমরা যদি সত্যিই চাই আমাদের সন্তানরা মানুষ হোক, বিশ্বে সুনাম কুড়াক, তাহলে এখনই সময় শিক্ষাকে রাজনীতির ছায়া থেকে মুক্ত করার। এই পরিকল্পনা কোনো নিষেধ নয়, বরং একটি সম্ভাবনার দরজা—যেখানে শিক্ষার আলোয় গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব।
10.09.2025

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন