সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

জোট-বিজোটের খেলা ও হেফাজত

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী

ভাবনা-৭৪

নির্বাচন যতো এগিয়ে আসছে রাজনীতির অঙ্গনে জোট-বিজোটের খেলা ততোই জমতে শুরু করেছে কে কাকে নিয়ে জোট করবে, কাদের সাথে গোপন সমঝোতা করবেএমন কৌশলে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেনএগুলো অবশ্য রাজনীতির মাঠের স্বাভাবিক দৃশ্য। তবে এবারের নযরকাড়া বিষয় হলো, অরাজনীতিক পরিচিতিপ্রাপ্ত হেফাজতে ইসলামকে নিয়ে রাজনীতিক মাঠের সরগোল আগেরকার নির্বাচনে হেফাজতকে নিয়ে যে কথা হয়নি তা নয় হয়েছে, সেটা কিন্তু আড়ালে-আবডালেশুনেছি, আল্লামা আহমদ শফী রহ.’ আমলে কিছু নেতা সংসদীয় মনোনয়ন পেতে আহমদ শফী রহ.’ সুপারিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হযরতের সমর্থন পেতে বিভিন্ন প্রচেষ্টাও চালিয়েচিলেন হযরত জুনায়েদ বাবুনগরী রহ.’ আমলে সে রকম কোন চেষ্টার সুযোগ ছিলো বলে জানা নেই তবে বর্তমান আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী দা.বা.’ কাছে এমন চেষ্টার কথা কানে না আসলেও দেশের প্রধান রাজনীতিক শক্তিগুলো সৌজন্য সাক্ষাতে আসছেন ইতোমধ্যে জামায়াত বিএনপি, সম্ভবত এনসিপিও হযরত বাবুনগরীর সাথে নির্বাচনপূর্ব সাক্ষাতে মিলিত হয়েছে একান্ত সাক্ষাতে তাঁরা হযরত বাবুনগরীকে কি বলেছেন জানা নেই নির্বাচন নিয়ে কিছু বললেও অপ্রত্যাশিত হবার কথা নয়

বলাবাহুল্য, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আমীরে হেফাজতের সাম্প্রতিক অদূর অতীতের বক্তব্যগুলো এখন আলোচনার টেবিলের গুরুত্বকে প্রকাশ করছে বিভিন্ন জায়গায়, সমাবেশে, প্লাটফরমে কথা হচ্ছে; যে যার অভিমত হিসাবে আলোচনাসমালোচনা করছেন সুতরাং বিষয়টিতে একটি নিরপেক্ষ প্রামাণ্য আলোচনার প্রয়োজন অনস্বীকার্য প্রথম কথা হলো, হেফাজত-আমীর কিন্তু তাঁর অরাজনীতিক অবস্থানে ছিলেন শুরু থেকেতিনি কোন রাজনীতিক নেতাকে ডাকেননি বা তাদের কার্যালয়ে পাও ফেলেননি তাঁর কাছে নেতারা এসেছেন দোয়া চাওয়ার কথা বলেসমস্যার শুরু, জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা জনাব শাহজাহান চৌধুরী আমীরে হেফাজতের সাথে সাক্ষাত করতে আসার পর। সেখানে তাঁর সাথে মাও.মওদূদী সাহেবের মতবাদ নিয়ে কথা উঠে। তিনি স্বাভাবিকভাবে মওদূদী সাহেবের সমর্থনে কিছু কথা বলেনতবে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তাঁরা মওদূদী সাহেবের ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রাখলেও তাঁর ফিকাহ বা মতাদর্শকে মানেন নাসেদিনকার বৈঠকে উস্তাযে মুহতারাম মুফতী মাহমূদ হাসান ভুজপুরী দা. বা. মাও.মীর হোসাইন রামগড়ীও ছিলেন আমি হযরতদের সাথে আলাদা-আলাদা করে কথা বলেছি হযরত মুফতী সাহেবের কথায়: জামিয়া বাবুনগরে জনাব শাহজাহান চৌধুরী মওদূদী সাহেবের মতাদর্শকে না মানার কথা বললেও সেদিন ফটিকছড়ির আজাদী বাজারে জামায়াত-আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাও.মওদূদী সাহেবকে তাঁদের আদর্শ বলে দাবি করেনবিষয়টি আমীরে হেফাজতের কানে আসার পর তাঁর মনস্তাত্বিক পরিস্থিতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটে এবং ধরনের আচরণের ব্যাপারে সচেতন হয়ে উঠেন জনাব শাহজাহান চৌধুরীর সাথে কৃত সাক্ষাতে জামিয়া বাবুগরের উর্দ্ধতন শিক্ষক মাও.মীর হোসাইন সাহেব জামায়াত নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যেহেতু বলছেন, আপনারা মওদূদী সাহেবের মতবাদকে মানে নাসে কথাটি মিডিয়ায় বলুন। সমস্যা মিটে যাবেতখন তাঁরা বলেন: তাঁরা তর্ক করতে আসেননি, দোয়ার জন্য এসেছেন এরপর নেতৃবৃন্দ চলে যান বিষয়টি নিয়ে আমি যদ্দূর জানতে পেরেছি, আমীরে হেফাজত পরে উক্ত প্রসঙ্গে হাটহাজারী মাদরাসায় যান এবং বিষয়ে মাদরাসার পরিচালক অন্যান্য উর্দ্ধতন উস্তাদদের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আমীরে হেফাজত উম্মুল মাদারিস হিসাবে হাটহাজারী মাদরাসার ভূমিকাকে জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করে ফিরকায়ে বাতিলা সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান কিন্তু হাটহাজারী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অস্বীকার না করলেও কোন বার্তা দেয়ার ব্যাপারে নীরব থাকেনএমতাবস্থায়, আমীরে হেফাজত একজন দায়ীয়ে ইসলাম আকাবীরের ফরযন্দ হিসাবে ঈমানী জিম্মাদারী মনে করে মওদূদী-মতাদর্শ বিষয়ে এককভাবে মুখ খুলতে বাধ্য হন

কথাগুলো এজন্য বললাম, আমীরের হেফাজতের সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় না আনলে পাঠকমহল বিভ্রান্ত হবেন সে দৃষ্টিকোণ থেকে আমীরে হেফাজতের সাম্প্রতিক জামায়াতবিরোধী বক্তব্যকে কোন রাজনীতিক বিবেচনায় না আনা বাঞ্ছনীয় মনে করিতবে হ্যা, আর দশটির মতো এগুলোকে নিয়েও রাজনীতিক ব্যবহার হতে পারেএর জন্য তো আমীরে হেফাজত দায়ী ননবলছিলাম, রাজনীতির জোট-বিজোটের খেলা নিয়ে উল্লেখ করা দরকার, দেশের বৃহৎ রাজনীতিক দল বিএনপি কিন্তু হেফাজতের সমর্থন চেয়েছে তাঁদের কথায়, হেফাজতের মধ্যকার বেশ কয়েকটি দল রাজনীতির মাঠে সক্রিয়, তাই তাঁদের সাথে বিএনপি জোটভিত্তিক সমঝোতা প্রয়োজনএখন যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে তা হলো, হেফাজতকে নিয়ে রাজনীতির খেলা সওদাবাজি বেশ জমে উঠছে বলে মনে হয়একটি সূত্র আমাকে জানায়, গত ২৫শে সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ঢাকায় জমিয়তের অনুষ্ঠান শেষে আমীরে হেফাজত বসুন্ধরার ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারে যান সেখানে বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দও তাঁর সাথে দেখা করেনসেদিন বসুন্ধরায় হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন মাও. আজিজুল হক ইসলামাবাদীও ছিলেন তিনি একজন আলিমের সাথে একান্ত এক বৈঠকে বলেন, কওমীভিত্তিক ইসলামী রাজনীতিক দলগুলো একেএকে সবাই বিএনপি সাথে চলে আসবেতাঁর কথা থেকে বুঝলাম, যারা এখন জামায়াতের সাথে যুগপৎ আন্দোলনে আছে তাঁরাও বিএনপি সাথে জোটবদ্ধ হবে কিন্তু গত ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৫ রবিবার দৈনিক মানবজমিনে মাও.আজিজুল হক ইসলামাবাদীর বরাতে একটি খবরাংশ প্রকাশিত হয়তাতে মাও. ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতের সঙ্গে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বিএনপির নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে। তাদের সঙ্গে কারও কারও যোগাযোগ আছে, আর কারও কারও যোগাযোগ হচ্ছে। উভয় সূত্রের খবর কিন্তু রীতিমতো চমকে ওঠার মতো। নিজেকে নিজ প্রশ্ন করলাম, ইনি কি সেই আজিজুল হক নন যিনি গত ১৮ই আগস্ট ২০২৪ রাজধানীতে জামায়াত আহুত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমীরের প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেছিলেন, আমিরে জামায়াত সব মারকাজের আলেমদেরকে একত্রিত করে সবাইকে ধন্য করেছেন। আমাদের এই ঐক্য বা হাজারো ঐক্য কোনও কাজে আসবে না, যদি আমরা ব্যালটের যুদ্ধে একত্রিত হতে না পারি। আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক দেশ। তাই আমাদেরকে গণতান্ত্রিক সিস্টেমে আগাতে হবে?’(দৈনিক ইত্তেফাক ২৫শে আগস্ট, ২০২৪) তা ছাড়া, মাও. ইসলামাবাদীও তো নেজামে ইসলামের একজন নেতা বিষয়টি কি পাঠকমহলের সবাইকে ভাবাচ্ছে না? তাহলে কি আমাদেরকে বুঝে নিতে হবে যে, হেফাজতের অভ্যন্তরে একটি দল মাও. ইসলামাবাদীও যার অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বিএনপি’র সাথে কওমীভিত্তিক ইসলামী দলগুলোর লিয়াজোতে সম্পৃক্ত? জানি না, এটা নিশ্চিত কি না। তবে সত্য হলে বুঝতে হতে পারে, হেফাজতের রাজনীতিক ব্যবহার চলছে। আমাদের বুঝতে কষ্ট হচ্ছে, যিনি একদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে ভোটযুদ্ধের পক্ষে কথা বলবেন আবার বিএনপি’র সাথে জোট হবার বিষয়ে অগ্রগতির কথা বলবেন বা তাতে সম্পৃক্ত থাকবেনবিষয়টিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়? আমীরে হেফাজত কি ব্যাপারটি জানেন?

হেফাজতের রাজনীতিক ব্যবহার নিয়ে আলোচনা কম নয় কিন্তু যারা সওদাবাজি করছেন, রাজনীতিক ব্যবহার করছেনতাদের তো নিবৃত করা যাচ্ছে না এর মূল কারণ, হেফাজতের অভ্যন্তরে স্বচচ্ছতা ও জবাদিহীতার অভাবএটা নতুন কোন সমস্যা নয়২০১৩ সালের শাপলার ঘটনা থেকে এ রোগ প্রকট আকার ধারণ করে শাপলার ঘটনার দিন যখন একের পর এক লাশ পড়ছিলো, দিগন্ত টেলিভিশন অফিসে মাইনুদ্দীন রূহী ও তার কয়েকজন সঙ্গীসহ বস্তাভর্তি টাকা গণনা করার ঘটনা এখন কমবেশি সবার জানা। হেফাজতের ভেতর থেকে সচেতন কিছু মানুষ বিষয়গুলোকে সমাধানের চেষ্টা করলেও তা শীর্ষ নেতৃত্বের বাধা ও অনীহার কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি ফলে, সংগঠনের জন্য আসা বিপুল অর্থ তাসরূফ যেমন হয়েছে তেমনি সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি ও রাজনীতিক দলের সাথে সওদাবাজিও হয়েছেএগুলো আল্লামা আহমদ শফী রহ.’র জমানা থেকে এখনো চলমান কেউ লাগাম টানার সাহস পায়নি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে এ সুযোগে কেউ লক্ষ-লক্ষ, কেউ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে সিন্ডিকেটের শক্তিমত্তা এখনো সবলে বলিয়ান বলাবাহুল্য, সিন্ডিকেটের সদস্য পরিবর্তন হয়েছে কেবল চরিত্রের পরিবর্তন হয়নিএ নিয়ে হেফাজতের অভ্যন্তরে অস্থিরতাও কম হয়নি অস্থিরতা সামাল দিতে গত ১৪ই এপ্রিল ২০২৫, সোমবার দিবাগত রাতে জামিয়া বাবুনগরে আমীরে হেফাজতের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সেখানে সিন্ডিকেট নিয়ে কথা উঠলে খোদ সিন্ডিকেটের সদস্যরাই কোন প্রকার সিন্ডিকেট থাকার কথা অস্বীকার করেন এবং তাদের প্রভাবের কারণে সমস্যাটির কোন সমাধান হওয়া ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় উপরন্তু যারা সিন্ডিকেটের কথা উত্থাপন করেন তাদের এক প্রকার সাইডলাইনে চলে যেতে হয়এমন কি তাদেরকে হেফাজতের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার গোপন মিশনও শুরু হয় বলে জানা যায় আমাদের দুর্ভাগ্য, আজ পর্যন্ত হেফাজতের পক্ষ থেকে কখনো বলা হয়নি, ফীবছর কত টাকা আসলো-গেলো আর কতো টাকা থলেতে জমা রইল অথচ এগুলো কওমের টাকা; কারও পৈতৃক সম্পত্তি ছিলো না বিনিময়ে শাপলার শহীদ ও আহতদের পরিবার যথাযোগ্য সাহায্য-সহযোগিতা থেকে আজও বঞ্চিত রয়ে গেছে এগুলোর দায় অবশ্যই দায়িত্বশীলদেরকে নিতে হবে, হোক তিনি সর্বজনমান্য

২০২১ সালে হাটহাজারীর হেফাজতের মুদিবিরোধী মামলায় কারাগারে থাকাকালীন একটি সূত্র হেফাজতের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া সওদাবজি নিয়ে আশ্চর্যজনক তথ্য দেন। হেফাজতের কোন কর্মসূচী ঘোষিত হলে লেনদেন ও সওদাবাজির এক বাজার কাযেম হতো। বিশেষ করে হরতাল-সমাবেশের মতো প্রোগ্রামগুলোকে কেন্দ্র করে সরকারের এজেন্সির সাথে দর কষাকষি হতো নিবৃতে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ২১ সালের মার্চের হরতাল নিয়ে সরকার যে কোন বিনিময়ে হরতাল প্রত্যাহারে প্রথমত অনুরোধ পরে হুমকি-ধমকি প্রদান করে। সে সময় হেফাজতের একটি সিন্ডিকেট বিষয়টিতে সওদাবাজি করে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন কি চব্বিশের বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদের দোসরদের মধ্যে কাকে কোন-কোন মামলা থেকে রেহাই দেয়া হবে, কাদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হবে ইত্যাদি নিয়ে বিপুল অর্থের সওদাবাজি হয়েছে বলে কয়েকটি সূত্র আমাকে জানায়। আগে সিন্ডিকেট হাটহাজারীভিত্তিক হলেও এখন ঢাকা, হাটাহাজারী ও ফটিকছড়িভিত্তিক সিন্ডিকেট হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এ যেন ব্যাংকের শাখা খোলার মতো। এদের কাজ হলো, হেফাজতের নাম ভাঙ্গিয়ে স্বার্থ হাসিল করা। আমার রিমান্ডের সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ না করে পারছি নারিমান্ডের এক পর্যায়ে ওসি রফিকের চেম্বারে পুলিস কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যে কথা হচ্ছিলো। এক পর্যায়ে শুনতে পেলাম, ২১-র মার্চের হরতাল প্রত্যাহার নিয়ে হেফাজতের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বৈঠক চলছিলো। বৈঠকটি নাকি হয়েছে মডেল থানার দ্বিতীয় তলায়। ওসি রফিক অন্য অফিসারদের বলছিলেন, বৈঠক চলাকালীন সময়ে ‘আবূ দারদা’ নামে এক আইডি থেকে বৈঠকে অংশ নেয়া এক হেফাজত-প্রতিনিধির কাছে ফোন এলো: এতো টাকা দিলাম আপনাদেরকে আন্দোলন করতে, আবার সমঝোতা কিসের? আমি জানি না, এ কথোপকথনের কতোটুকু সত্য বা মিথ্যা। কিন্তু যদি এসব সত্য হয়ে থাকে তবে তা কি সওদাবাজির আলামাতকে নির্দেশ করবে না? ধরে নিলাম, এ সূত্রটি বনী ইসরাঈলের রিওয়ায়েতের মতো। তবু তো শিক্ষা নেবার বা সতর্ক হবার যথেষ্ট উপাদান আছে। একটি সূত্র আমাকে জানিয়েছে, তদবীরের মাধ্যমে হেফাজতের নয় এমন মামলাও হেফাজতের মামলার সাথে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতো দেখছি, সাধারণ পাবলিকের দুষ্কর্মকেও হার মানাবে!

কথাগুলো এজন্য বললাম, আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন সওদাবাজির বাজার আবার গরম হতে চলেছে। আমীরে হেফাজতের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের সূত্র ধরে যেসব খবর আসছে তা রীতিমতো আতঙ্কিত হবার মতো। সব তাই প্রকাশ করছি না। নৈর্বাচনিক রাস্তা পার হতে জোটভিত্তিক সওদাবাজি প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে হয়। সরকারের তরফে চিহ্নিত সিন্ডিকেটের ব্যাংক-হিসাবের আচরণ তদন্ত করে দেখা খুবই দরকার। এগুলোকে রোধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে হেফাজত আর হেফাজত থাকবে বলে মনে হয় না। আশঙ্কা জাগে, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর অবর্তমানে হেফাজতে ইসলাম এক খেলনায় পরিণত হবে। আমার সবচেয়ে বেশি অবাক লাগে হেফাজত তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত শাপলাসহ কোন ঘটনার নিরপেক্ষ ঘটনার তদন্ত করেনি; এমন কি কওমের কাছে জবাবদিহীর গরজও অনুভব করেনি। জানি না পৃথিবীতে এতো বেপরোয়া সংগঠন আর আছে কি না। আমাদের কপালের কালো মেঘ না সরলে এগুলো নিরসন হবে বলে মনে হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।

21.09.2025 

কোন মন্তব্য নেই:

Featured Post

মার্কিন-জামায়াত সম্পর্কের অজানা অধ্যায়

মুহাম্মাদ গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী ভাবনা-৭৭  সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন-জামায়াতের দৃশ্যম...