কিছু বলতে ডর
লাগে। বুঝেন-ই তো, যদি বলার অপরাধে মামলা খাই? বাজারে গেলে কারও সাথে কিছু বলতে ডর
লাগে। কে আবার কোন কথাকে কোথায় নিয়ে যায়, বলা তো যায় না! পত্রিকায় দেখি, অমুক গ্রেফতার
ডিজিটাল আইনে। দোষটা কি? কি যেনো লিখেছে কে জানে? ওর আর রক্ষা নেই। তাই কিছু বলতে গেলে
অদৃশ্য এক জালি যেনো চোখের সামনে এসে দাঁড়ায়। মনে হয়, কারাগারে আছি। সঙ্গতকারণে, কিছু
বলতে গিয়ে মুখ হটে আসে। এই যে লিখছি, বুকে অজানা ভয়; সংকোচ। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় যখন
ভাবি: আমি স্বাধীন। আমার কথা, মতামত আমি বলতে পারবো নির্দ্বিধায়। এমন কল্পনা করতে মাঝেমাঝে
কণ্ঠ শুকিয়ে যেতে চায়। পরিবার মানা করে কিছু লিখতে, বলতে অজানা বিপদের আশঙ্কায়। যারা
সরকারের বলে জানি ওরা আপন হলেও, সংকোচ করি। মেপে-মেপে বলতে হয়। কোনটা যে সরকারের পক্ষে
আর বিপক্ষে, বোঝা দায়। আবার কোন দোষ না করেও ভুগতে হয়। ফোন করে বলবে: আমি অমুক সংস্থা
থেকে বলছি। আপনি কি করেন? ইত্যাদি। ডর লাগিয়ে দেয়া আর কি। সবসময় নিরাপত্তাহীনতা লাগে।
সাদাপোষাকে কেউ এলো না তো! কলিং বেল বাজলে সবাই আঁতকে উঠি। দৌড়ে গিয়ে আগে খাপ দিয়ে
দেখি। এসে যদি বলে: থানায় যেতে হবে। রক্তচাপের জন্য অষুধ খাই না; খাই টেনশন না হতে।
রমজান এলো, কাল থেকে। গেলো বছরের মতো এ বছর
আর হয়ে উঠছে না। বুঝতে পারছেন না! মধ্যবিত্ত হয়ে জন্মেছি, সে কি কম দোষের? কথায় বলে
না, অল্প শোকে কাতর আর অধিক শোকে পাথর। আগে মানুষজন সরকারকে দু’কথা বলে মন হালকা করার
মওকা পেতো। এখন তাও খোলা নেই। বেপারীরা বলে, কিনছি বেশি দামে, কম দামে বেচবো কেমন করে?
আমরা তো ছোট বেপারী। বড়োদের কেউ কিছু করে না। পরিষদ আছে, জনপ্রতিনিধি আছে—কারও কাছে সান্ত্বনা নেই। ওরাও
বা কি করবে? আমাদের না বলার আছে, না সওয়ার আছে। মাছের বাজার, গোশতের বাজার—সে তো হিমালয় দেখা। কাপড় বলে
ধুয়ে দাও আর পকেট বলে সয়ে নাও। গেলো বছর যা এনেছি দশ টাকায় সে এখন প্রমোশনে ত্রিশ টাকায়।
বাক আমাদের তবুও স্বাধীন। বলতেই হবে। সেটা না বললে কি অমানুষ আর অকৃতজ্ঞ হবো না? ভাবছি,
বাজারে যে দাম বেশি—সে
কথা বললে কি ডিজিটাল আইনে মামলা খাবো? বুঝতে পারছি না। দুরুদুরু বুকে লিখলাম দু’কলম।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন